কলাগাছের ভেলায় চড়ে কীর্তনখোলা নদীতে 'অজানার উদ্দেশে প্রতীকী যাত্রা' কর্মসূচি পালন করেছে কয়েকটি জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবার। ছোট ভেলায় তারা তুলে নেয় ছাগল-হাঁস-মুরগিসহ সহায় সম্বল। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে স্লোগান লেখা ছিল- 'আমাদের জলবায়ু উদ্বাস্তু হিসেবে স্বীকৃতি দাও'। এ সময় সমব্যথীরা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেন। 

বুধবার দুপুরে বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের পামেরহাট সংলগ্ন কীর্তনখোলার তীরে এমন ব্যতিক্রমী প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিশ্বনেতাদের কাছে কার্বন নির্গমন কমানোর দাবিতে উন্নয়ন সংস্থা প্রান্তজন, বাংলাদেশের বৈদেশিক দেনা বিষয়ক কর্মজোট (বিডব্লিউডিইডি) ও উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন) যৌথভাবে এ কর্মসূচি আয়োজন করে।

উদ্বাস্তু যাত্রায় বক্তারা অবিলম্বে কয়লাসহ জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বন্ধ করা, উন্নত বিশ্বের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশকে সহায়তা করা, ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

প্রান্তজনের নির্বাহী পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম শাহজাদা বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে ইতোমধ্যে বায়ুমণ্ডলে কার্বনের ঘনত্ব পৃথিবীর সহনক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে প্রতিবছর বাংলাদেশে ৫ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে যাচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, লবণাক্ততার কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে।

প্রতীকী উদ্বাস্তু যাত্রা সমাবেশে বক্তৃতা করেন সাইফুল ইসলাম মনির, সফিকুর রহমান, বাদল খলিফা, শুকতারা বেগম, নিজাম খলিফা, জালাল হাওলাদার, বাবুল হাওলাদার, আল আমিন হাওলাদার, সোহেল সিকদার, রিয়াজ হাওলাদার, মনির হাওলাদার প্রমুখ।