স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি হিন্দু সম্প্রদায়ের মণ্ডপ, মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান। 

বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার মিলনায়তনে এক আন্তঃ ধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। 

ফরিদুল হক খান বলেন, ‘যে ঘটনা ঘটেছে তা কোনো ধর্মের মানুষ করতে পারেনা। কেননা কোন ধর্মে  এমন হামলা ও ভাংচুর সমর্থন করে না। বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছে, তারাই এই হামলা চালিয়েছে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিই এই হামলা চালিয়েছে। এরা মানুষ নয়, এরা পশুর চেয়েও অধম।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে এই হামলা চালানো হয়েছে।’

নির্বাচনী ব্যবস্থা বানচাল করতেই এই হামলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

ফরিদুল হক খান বলেন, ‘তাদের উদ্দেশ্য ছিল যেন আগামী নির্বাচনে যেন অনুষ্ঠিত না হয়। যারা এই কাজ করেছে তাদের আটক করতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন। তাদের সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে। সবার সহযোগিতা নিয়ে আগামীতে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, যেন এমন ঘটনা আর না হতে পারে।  এছাড়া যাদের উপর হামলা হয়েছে তাদের সাথে সুন্দর ব্যবহার করার অনুরোধ করছি।’ 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা কোরআনে অসংখ্য জায়গায় ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। আমরা আজ যে যে অবস্থানে আছি তা কেবলমাত্র আল্লাহর সহযোগিতায় সম্ভব।’ 

তিনি বলেন, ‘রাসুল (সাঃ) যেভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন, বঙ্গবন্ধু  ঠিক সেভাবেই দেশ পরিচালনা করেছেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিক সেভাবেই আলেমদের খবর রাখছেন।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খানের সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মামুনুর রশীদ কিরণ, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মনোরঞ্জন শীল গোপাল, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. এবিএম জাফর উল্যাহ, চৌমুহনী পৌরসভার মেয়র খালেদ সাইফুল্লাহ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস-চেয়ারম্যান সুব্রত পাল ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অংকুর জিৎ সাহা নব প্রমুখ।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান সাম্প্রদায়িক হামলায়  ক্ষতিগ্রস্থ বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এসময় হামলার ঘটনায় নিহত যতন সাহা ও প্রান্ত চন্দ্র দাসের পরিবারকে নগদ ৫০ হাজার টাকা করে ১ লাখ টাকা তুলে দেন।