পাবনার কাজীরহাট ঘাটের পন্টুন ভেঙে নদী পারের অপেক্ষায় আটকা পড়েছে পাঁচ শতাধিক পণ্যবোঝাই ট্রাক। ফলে সড়কে তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট। পন্টুন ভাঙা থাকার কারণে ঘাটে ভিড়তে না পেরে আরিচা থেকে যানবাহন নিয়ে আসা দুটি ফেরি দীর্ঘ সময় নদীতে নোঙর করতে হয়েছিল।

 শনিবার গভীর রাতে আরিচা ঘাট থেকে নতুন পন্টুন নিয়ে আসা হয় এবং রোববার পর্যন্ত সেটি স্থাপনে কাজ করা হচ্ছিল। আজ এটি স্থাপন শেষ হতে পারে বলে জানা গেছে।

কাজীরহাট ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান সমকালকে জানান, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ঘাটের একমাত্র পন্টুনটি হঠাৎ করেই ভেঙে যায়। এতে ঘাটে কোনো ফেরি ভিড়তে না পারায় ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

যাত্রী ও যানবাহনের চালকেরা অভিযোগ করেন, কাজীরহাট-আরিচা নৌপথে ছয় থেকে সাতটি ফেরির প্রয়োজন। কিন্তু চালু রয়েছে চারটি। যে চারটি চালু রয়েছে সেগুলো একদিকে যেমন ছোট ও ধীরগতির, তেমনি ত্রুটিযুক্ত। ফলে কাজীরহাট ফেরিঘাটে আরিচায় পার হতে আসা যানবাহনের ভিড় লেগেই থাকে। এর ওপর ওই ঘাটে ফেরিতে যানবাহন ওঠানামার জন্য রয়েছে মাত্র একটি পন্টুন।

আছিরুদ্দিন নামের ট্রাকচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মহাসড়কে চার-পাঁচ দিন ধরে এভাবে বসে থাকায় খাওয়ার কষ্টের সঙ্গে পেটের সমস্যা দেখা দিয়েছে।

পাঁচ দিন ধরে পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে আটকে আছেন ট্রাকচালক গফুর আলী। তিনি বলেন, এই নৌপথে সাত থেকে আটটি ফেরির প্রয়োজন। অথচ দেওয়া হয়েছে চারটি দুর্বল ও ছোট ফেরি। পন্টুন ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সেটি মেরামত করা হয়নি।

নওগাঁ থেকে আসা ট্রাকচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, 'এত বড় একটি ফেরিঘাটে মাত্র একটি পন্টুন থাকায় মাঝেমধ্যেই পন্টুন ভেঙে যাওয়ার খবর শুনতে পাই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তির মধ্যে থাকতে হয়। এখানে কমপক্ষে তিনটি পন্টুন দরকার।'

পাবনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম শামসুজ্জোহা বলেন, কাজীরহাটের ট্রাক টার্মিনাল দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা বিআইডব্লিউটিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথাও বলেছি। টার্মিনালটি দখলমুক্ত হলে ফেরিঘাটসংলগ্ন মহাসড়ক অনেকটাই যানজটমুক্ত হবে।

বিআইডব্লিউটিসির কাজীরহাট ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, আরিচা থেকে নতুন পন্টুন এসেছে। ভেঙে যাওয়া পন্টুনটি সরিয়ে ওই স্থানে নতুন পন্টুন বসানো হচ্ছে। এতে যানজট কমে আসবে।

বারবার পন্টুন ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ ঘাট এখন অনেকটাই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। উত্তরবঙ্গের এখন প্রবেশদ্বার এই নৌপথ। আরও দুটি পন্টুন নির্মাণ করা দরকার। একটি পন্টুন থাকায় যানবাহনের চাপে সেটি বারবার নষ্ট হচ্ছে।