টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বউ-শাশুড়িসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা হয়েছে। হত্যার শিকার জামেলা বেগমের বড় ছেলের স্ত্রী শাহনাজ বেগম ঘাটাইল থানায় এই মামলা করেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।

প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, শাশুড়ি জামেলা বেগম ও তার আরেক পুত্রবধূ সুমীকে হত্যা করে আত্মহত্যা করেছে সুমীর প্রেমিক শাহজালাল।

সুমীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বছর দেড়েক আগে সুমীর ফুফাতো বোনের সিজারিয়ান অপারেশনের সময় কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে তার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল শাহজালালের। কালিহাতী উপজেলার সাতুটিয়া এলাকার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হরুন-আর রশিদ জানান, ওই সময় শাহজালাল স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচিতে (এসএসকে) কালিহাতী হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।

তবে শাহজালালের মা জামেলা জানান, তার ছেলে অশিক্ষিত। যে ঘরে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সেই ঘরের দেয়ালে লেখা ছিল- ‘এমন টা হতনা যুদী আমার সুমী আমার কাছে থাকতো, এই সব কিছুর যন্নে সুমী বাবা দায়’। ফলে জামেলা বেগমের প্রশ্ন- দেয়ালে থাকা লেখাটি তাহলে কার।

ওই ঘটনায় তিনজনের লাশের সঙ্গে সুমীর চার বছরের সন্তান সাফীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় আঘাত ছিল। শনিবার রাতে ঢাকা মেডিকেলে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে তার। শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

ময়নাতদন্ত শেষে সুমী ও তার শাশুড়ির মরদেহ এশার নামাজের পর এবং শাহজালালের মরদেহ তার নিজ গ্রাম কালিহাতী উপজেলার সাতুটিয়া গ্রামে বাদ মাগরিব দাফন করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার মোহাম্মদ কায়সার সমকালকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, শাহজালালই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।’

কারণ হিসেবে তিনি জানান, সুমী এবং তার পরিবার যে ঘরে বাস করত, সেই ঘরের তালার চাবি শাহজালালের প্যান্টের পকেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সুমীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দু’জনকে হত্যা করে শাহজালাল নিজেই আত্মহত্যা করেছে। তারপরও তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছেন। এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ঘাটাইল উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের কাশচলা দক্ষিণপাড়া গ্রামের একটি ঘর থেকে শনিবার সকালে সুমী ও তার শাশুড়ি এবং শাহজালালের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।