ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

চিকিৎসার আড়ালে অ্যালকোহল বিক্রির অভিযোগ

অ্যালকোহল পানে দু’জনের মৃত্যু, চিকিৎসক আটক

অ্যালকোহল পানে দু’জনের মৃত্যু, চিকিৎসক আটক

নিহতের স্বজনদের আহাজারি

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১৮:৫০

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাঁশগ্রাম বাজারের হোমিও চিকিৎসক হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে চিকিৎসার আড়ালে অবৈধভাবে অ্যালকোহল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। তাঁর কাছ থেকে কেনা অ্যালকোহল পান করে দু’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

রোববার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ।

ডিবি পুলিশের ওসি মাহফুজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নিহতদের মধ্যে বাগুলাট ইউনিয়নের শালঘরমধুয়া গ্রামের মৃত ইজ্জত আলীর ছেলে নুরুল ইসলাম (৫০) পেশায় মোটর শ্রমিক ছিলেন। তিনি রোববার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

নিহত আরেকজন কাশেম আলী (৪০)। তিনি ইবি থানা এলাকার দূর্বাচারা গ্রামের নুর ইসলাম পটলের ছেলে। তিনি শনিবার রাতে একই হাসপাতালে মারা যান। তাদের সহযোগী মো. গঞ্জের আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি দূর্বাচারা গ্রামের মৃত আনছার আলীর ছেলে।

পুলিশ, স্বজন ও এলাকাবাসী জানিয়েছে, বাগুলাট ইউনিয়নের ভড়ুয়াপাড়া গ্রামের হামিদুল ইসলাম বাঁশগ্রাম বাজারে হোমিও চিকিৎসার আড়ালে অ্যালকোহল ও স্পিরিট বিক্রি করতেন। শুক্রবার নুরুল ও কাশেম তাঁর কাছ থেকে অ্যালকোহল কিনে পাঁচ থেকে ছয়জন মিলে পান করেন। রাতে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে যান।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই দিনে কাশেম ও নুরুল মারা যান। কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তাপস কুমার সরকার জানান, মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল পানে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বাঁশগ্রাম বাজারের ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাস্টার মার্কেটে হামিদুলের চেম্বার। সেখানে এক পুলিশ সদস্য পাহারায় আছেন। তবে সাইনবোর্ড নেই। পরে নুরুলের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্স থেকে মরদেহ নামানো হচ্ছে। স্বজন ও প্রতিবেশীরা ভিড় করেন সেখানে।

নুরুলের ছেলে পিকলু মোল্লার অভিযোগ, হামিদুল চিকিৎসার আড়ালে মাদক হিসেবে মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যালকোহল ও স্পিরিট বিক্রি করেন। তা কিনে পান করে তাঁর বাবা ও আরেকজন মারা গেছেন। তিনি মামলা করবেন বলে জানান। এলাকার কৃষক রান্নু মুন্সীর ভাষ্য, হামিদুল অ্যালকোহলের অবৈধ কারবার করে গ্রাম ও শহরে বাড়ি করেছেন। তাঁর কারণে অনেকে মাদকে জড়াচ্ছে। তিনিও ৭০ টাকা বোতল অ্যালকোহল কিনে পান করেছিলেন বলে জানান রান্নু মুন্সী।

ভড়ুয়াপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশে চিকিৎসক হামিদুলের দোতলা বাড়িতে সুনসান পরিবেশ। তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ অস্বীকার করে স্ত্রী বলেন, ‘অ্যালকোহল পানে কি কেউ মারা যায়? আমার স্বামী মাদক কারবার করেন না। তবুও গত রাতে তাঁকে ডিবি পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে।’

মৃত্যুর ঘটনার পর খোঁজ নিয়ে হামিদুলের অ্যালকোহল কারবারের কথা জেনেছেন বলে দাবি বাগুলাট ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক নবার। তিনি তদন্ত সাপেক্ষে চিকিৎসকের বিচার দাবি করেন।

কুমারখালী থানার ওসি মো. আকিবুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×