ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

নানির কান্না ছোট্ট ইয়াসের অজানা

নানির কান্না ছোট্ট ইয়াসের অজানা

বাবা-মায়ের মৃত্যুর কিছু না বুঝলেও নানির চোখের পানি মুছে সান্ত্বনা দিচ্ছে পাঁচ বছরের ইয়াস - সমকাল

নাটোর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২২:৪৩

বড়াইগ্রামের বনপাড়া পৌরসভার দিয়ারপাড়া গ্রামের আবুল কাশেম বকুল ছিলেন সংসারে একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। স্ত্রী সাবিকুন্নাহার সুমাকে নিয়ে গত রোববার কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে মারা যান তারা। একসঙ্গে বাবা-মার মৃত্যুতে পরিবারসহ এলাকাবাসী শোকাহত হলেও তখনও বিষয়টি বুঝে উঠতে পারেনি এ দম্পতির শিশুসন্তান ইয়াস আহমেদ (৪)। নানি নুরুন্নাহারের চোখের পানি মুছে দিয়ে সান্ত্বনা দিচ্ছিল সে।

ঢাকার একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাদে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন বকুল। সেখান থেকে শনিবার কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে রোববার স্ত্রীর সঙ্গে সৈকতে ডুবে মারা যান। তাদের মৃত্যুতে গ্রামের বাড়ি বড়াইগ্রামে চলছে মাতম। মা নুরুন্নাহারের সঙ্গে রোববার সকালে ফোনে মেয়ে সুমা বলেছিলেন, ট্রেনে বাড়ি ফিরবেন তারা। পরে কথা বলবেন বলে কল কেটে দেন। ছেলে ও পুত্রবধূকে হারিয়ে বুক চাপড়ে কাঁদছিলেন মা হুসনেয়ারাও।

বাড়ির এক পাশে রাখা দুটি স্টিলের খাটিয়া দেখে স্বজনরাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্থানীয় কবরস্থানে পাশাপাশি দুটি কবর খোঁড়া হয়। সেখানেই রাতে দাফন করা হয়েছে বকুল ও সাবিকুন্নাহারকে। এ দম্পতির ১১ বছরের বুশরা খাতুন ও ৮ বছর বয়সী আনাস আবদুল্লাহ নামে আরও দুই সন্তান রয়েছে। তারা নানাবাড়ি দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে বেড়াতে যাওয়ায় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যান বকুল। তবে এ দম্পতি আর কখনও জীবিত ফিরবেন না বাড়ি। বাবা-মা হারিয়ে এখন এতিম তিন শিশু।

প্রতিবেশীরা শিশুদের সান্ত্বনা দিতে গিয়ে নিজেরাই চোখের পানি ফেলেছেন। ওদের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কিত তারা। মেয়ে বুশরা বুঝতে পেরেছে, মা-বাবা আর তাদের কাছে জীবিত ফিরবে না। তবে ছোট দুই ভাই জানে, কক্সবাজার থেকে তাদের জন্য অনেক কিছু নিয়ে আসবে মা-বাবা। বকুলের বড় ভাই আবু তাহের জানান, তাঁর ভাই একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। সপরিবারে থাকতেন ঢাকার ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায়। অফিসিয়াল ট্যুর হিসেবে স্ত্রীকে নিয়ে শনিবার কক্সবাজারে বেড়াতে যান তিনি। সন্তানদের রেখে গিয়েছিলেন নানির কাছে।
বড়াইগ্রামের বনপাড়া পৌর শহরের দিয়ারপাড়া এলাকার মৃত বোরহানউদ্দিন আহমেদের ছেলে বকুল। সুমা দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের সুলতান আলীর একমাত্র মেয়ে। আবু তাহের ট্যুরিস্ট পুলিশের বরাতে জানান, রোববার সকালে সৈকতে গোসলে নামেন তারা। সেখানে ঢেউয়ে স্ত্রীকে ডুবে যেতে দেখে বকুল বাঁচানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। সি সেফ লাইফ গার্ডের কর্মীরা তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।

নিহত বকুল বনপাড়া পৌর মেয়র কে এম জাকির হোসেনের খালাতো ভাই। তিনি বলেন, তাদের অকাল মৃত্যু বেদনাদায়ক। এতিম তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে মেয়র ও তাদের চাচা হিসেবে সব সময় পাশে থাকবেন। মরদেহ বড়াইগ্রামে আসার পর তাদের দাফন করা হয়েছে। এ জন্য রাতেই কক্সবাজারে গাড়ি পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন

×