চট্টগ্রামবাসী না চাইলে সিআরবিতে বেসরকারি হাসপাতাল নির্মাণ হবে না বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। 

সোমবার দুপুরে রেল ভবনে সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত নাগরিক সমাজ-চটগ্রাম’ এর একটি প্রতিনিধি দল রেলপথ মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি এই বিষয়ে আশ্বস্থ করেন। 

মতবিনিময়কালে মন্ত্রীর কাছে সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের আইনি বাধাসহ যাবতীয় নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেন নাগরিক সমাজ- চট্টগ্রাম’ এর সদস্য সচিব মুক্তিযোদ্ধা  ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল। মন্ত্রী তার বক্তব্য শোনার পর নিজের অভিমত তুলে ধরেন।

রেলমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতাল প্রকল্পটি যেহেতু প্রধানমন্ত্রী দপ্তর থেকে গ্রহণ করা হয়েছে, তাই এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীই সিদ্ধান্ত দেবেন। তবে চট্টগ্রামবাসীর দাবি ও আইনি বাধার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে।’

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী রেলমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘সিআরবি হচ্ছে ২০০৯ সালের গেজেট অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি অনুমোদিত এবং সরকার ঘোষিত হেরিটেজ জোন। এখানে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। আইনগতভাবেও নিষিদ্ধ। তাছাড়া সিআরবি চট্টগ্রামের ফুসফুস হিসেবে পরিচিত। তাছাড়া সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুও। এখানে রয়েছে চাকসু জিএস শহীদ আবদুর রব, শহীদ মনোয়ার, শহীদ শেখ নজিরসহ ৯ শহীদের কবর এই সিআরবিতে। এখানে কোনো স্থাপনা হলে শহীদের কবর ধ্বংস হবে।’ 

প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রামবাসী হাসপাতালের বিপক্ষে নই। হাসপাতাল চাই। তবে সিআরবিতে নয়। সিআরবি ছাড়া অন্যত্র হাসপাতাল হলে আমরা স্বাগত জানাবো।’

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘হাসপাতাল করতে হলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) থেকে নকশা অনুমোদন দিতে হবে। চউক যদি নকশা না দেয় সেখানে হাসপাতাল হবে কী করে? আর অন্যান্য সংস্থার অনুমোদনে আইনি বাধা থাকলেও সেখানে কোনও কিছু করা সম্ভব না। সবচেয়ে বড় কথা, চট্টগ্রামবাসী না চাইলে সেখানে হাসপাতাল প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে না।’ 

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সিআরবিতে হাসপাতাল প্রকল্প রেল মন্ত্রণালয় গ্রহণ করেনি। এটি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পিপিপি অথরিটির প্রকল্প। বিনিয়োগও বেসরকারি। সুতরাং রেল মন্ত্রণালয়ের এখানে করার কিছুই নেই। নাগরিক সমাজের দেওয়া যাবতীয় তথ্য উপাত্ত আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবো, তিনিই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। তবে আমার অভিমত হচ্ছে, আইন ও চট্টগ্রামবাসীর সেন্টিমেন্টের বাইরে যাওয়া ঠিক হবে না। আমরা যা কিছু করছি জনগণের কল্যাণে। জনগণের কল্যাণে সরকার প্রকল্প গ্রহণ করে।’

মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক সমাজ-চট্টগ্রাম’ এর কো-চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুস, আওয়ামী লীগের উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, জাসদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন বাবুল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এএইচএম জিয়াউদ্দিন, নাগরিক সমাজ-চট্টগ্রাম'র যুগ্ম সদস্য সচিব ও বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব মহসীন কাজী, শাহীন উল ইসলাম চৌধুরী, আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসান, প্রণব চৌধুরী, রাশেদুল ইসলাম, অনির্বাণ দত্ত, মাসুদুল আলম চৌধুরী, হেলালউদ্দিন ও হারুনুর রশীদ।

গত বছর সিআরবি এলাকায় ছয় একর জমিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) হাসপাতাল প্রকল্পের চুক্তি সই ও অনুমোদন হয়। বেসরকারি ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ কোম্পানি লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠান ছয় একর জমিতে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, ১০০ আসনের মেডিকেল কলেজ ও ৫০ আসনের নার্সিং ইনস্টিটিউট করতে চায়। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ধরা হয়েছে ১২ বছর। 

ইতোমধ্যে রেলওয়েকে আট কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি। ৫০ বছর পর হাসপাতালটি রেলওয়েকে হস্তান্তর করা হবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সিআরবির প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় বেসরকারি উদ্যোগে হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণের বিরোধিতা করে আন্দোলন চালিয়ে আসছে চট্টগ্রামবাসী।