ছাত্রলীগের বিপক্ষ পক্ষের হামলায় গুরুতর আহত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহাদি জে আকিবের শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে। চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আকিবের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। রোববারের তুলনায় সোমবার সকাল থেকে তার শারীরিক অবস্থা আরও ভালো দেখতে পেয়েছেন চিকিৎসকরা। তাকে এখনও অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। আকিবকে সুস্থ করে তুলতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। 

নিউরো সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক এসএম নোমান খালেদ চৌধুরী বলেন, ‘শনিবার আকিবকে আমরা যে অবস্থায় পেয়েছিলাম তার চেয়ে সোমবার অনেকটা ভালো অবস্থায় আছে। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। ভালো রেসপন্স পাচ্ছি তার কাছ থেকে। এটি ইতিবাচক দিক। তাকে দ্রুত সুস্থ করে তুলতে সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সোমবার সকালে তার শারীরিক অবস্থা দেখে আমরা ইতিবাচক উন্নতি লক্ষ্য করেছি।’ 

চিকিৎসকরা জানান, আকিবকে সুরক্ষিত রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যে কাউকে আইসিইউ-এর ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। 

এর আগে গত শনিবার সকালে চমেকের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে মাত্র ৫০ সেকেন্ডেই ৮-১০ জন ছাত্রলীগ নামধারী তার ওপর হামলা চালায়। এরপর থেকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আকিব। ওইদিনই তার অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করেন চিকিৎসকরা। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়তে এসে নিজের কলেজের সহপাঠীদের হামলায় তার স্থান হয়েছে এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। সহপাঠিরা হামলা চালিয়ে থেঁতলে দেয় তার মাথার খুলি। এতে ভেঙে যায় মাথার হাড়। মস্তিস্কে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। জখম গুরুতর হওয়ায় আকিবের পুরো মাথায় লাগানো হয়েছে সাদা ব্যান্ডেজ। 

এতে ডাক্তার লিখে দিয়েছেন ‘হাড় নেই, চাপ দেবেন না।’ এমন হৃদয়বিদারক লেখা সম্বলিত তার ছবিটি ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের অনেকের পেজে যা দেকে আতঁকে উঠছেন অনেকেই। 

গত শুক্রবার চমেকের প্রধান ছাত্রাবাসে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। ওই ঘটনার জেরে শনিবার সকালে মাহাদির ওপর হামলা হয়। গুরুতর আহত মাহাদি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। 

এ ঘটনায় আকিবের ওপর হামলাকারী দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। পরে রোববার এ ঘটনায় নাছির উদ্দিনের অনুসারীরা চকবাজার থানায় আরেকটি মামলা করেন।