কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে এক নারী এক সঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এর মধ্যে এক শিশু মারা গেছে। নবজাতকের  স্বাভাবিকের এসব নবজাতকের ওজন কম। এদের সবার ওজন গড়ে ৭০০ গ্রাম করে।

মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে তাদের স্বাভাবিক (নরমাল ডেলিভারি) জন্ম হয়। নবজাতকের চার জন মেয়ে ও একজন ছেলে। এখন চার নবজাতককে নিবিড় পরিচর্চা কেন্দ্রে (স্ক্যানু ওয়ার্ড) রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা তাদের শারীরিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

হাসপাতাল এবং ওই নারীর পরিবার সূত্র জানায়, কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের পান্টি গ্রামের মুদি দোকানি সোহেল রানার স্ত্রী সাদিয়া জামান ১ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন। সকালে প্রসব বেদনা ওঠার পর চিকিৎসকদের ডাকা হয়। ওই সময় দুই নারী চিকিৎসক ডিউটিতে থাকার কথা থাকলেও তাদের না পেয়ে জ্যেষ্ঠ সেবিকা রাবেয়া খাতুন নিজেই লেবার ওয়ার্ডে নিয়ে যান তাকে। এরপর নরমালে পাঁচ শিশুর জন্ম দেন ওই নারী। শিশুদের ওজন কম থাকায় তাদের হাসপাতালের স্ক্যানু ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। আর মা সাদিয়া ওয়ার্ডের ৬ নম্বর বেডে ভর্তি আছেন। 

রাবেয়া জানান, ওই নারী সকালে পাঁচ শিশুর জন্ম দিয়েছেন। তার প্রসব বেদনা ওঠার পর লেবার রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চার সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর ওয়ার্ডে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরে এক ছেলে সন্তান হয়। শিশুদের ওজন খুবই  কম। সাড়ে ৬ মাসেই তাদের জন্ম হয়েছে। এ কারণে কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে। ২৭ বছরের চাকরি জীবনে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচ শিশু জন্ম দেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম বলে জানান তিনি। 

সাদিয়ার স্বামী সোহেল রানা জানান,  ২০১৬ সালে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সন্তান হচ্ছিলো না। পরে ঝিনাইদহ জেলার এক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার পর চলতি বছরের মার্চে তার স্ত্রী গর্ভধারণ করেন। ওই চিকিৎসক জানিয়েছিলেন তার স্ত্রীর গর্ভে সাতটি সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে পরীক্ষা করে ওই চিকিৎসক জানিয়েছিলেন একটি নষ্ট হয়ে ছয়টি আছে। আজ পাঁচ শিশুর জন্ম হয়েছে। তবে নির্ধারিত তারিখের অনেক আগেই বাচ্চা হওয়ায় তাদের নিয়ে চিন্তিত তিনি। ওজম কম থাকায় তাদের নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। 

এদিকে হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচ শিশুর জন্ম হলেও এই ব্যাপারে কিছুই জানেন না আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আশরাফুল আলম। তিনি বলেন, ‘আমার হাসপাতালে তাদের জন্ম হয়নি, বাইরে জন্ম হয়েছে। এখানে চিকিৎসার জন্য এসেছে।’ পরে অবশ্য তিনি বলেছেন, ‘খোঁজ নিয়ে জানাতে হবে।’ 

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘হাসপাতালে সাদিয়া নামের এক নারী একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। শিশুরা স্ক্যানু ওয়ার্ডে ভতি আছে। ইতোমধ্যে একজন মারা গেছে। বাকিদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’