নিজেদের বাল্যবিয়ে ঠেকিয়ে সাহসিকতার সম্মাননা পেয়েছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সাত কিশোরী। করোনাকালে এ সাত কিশোরী নিজেদের বুদ্ধিমত্তা ও সাহস দিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন।

সাহসী এসব শিক্ষার্থীকে সম্মামনা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে জাতীয় যুব দিবসের অনুষ্ঠানে সম্মাননা, শিক্ষা উপকরণ, বই ও নগদ টাকা দেওয়া হয় কিশোরীদের।

সিডা ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, আরডিআরএস বাংলাদেশ বিল্ডিং বেটার ফিউচার ফর গার্লস (বিবিএফজি) প্রকল্পের সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়। কিশোরীদের দেওয়া অর্থে সহায়তা করেন উপজেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য জাকিয়া সুলতানা বুবলী।

সম্মাননা প্রাপ্তরা হলো, উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের হাউসেরহাট গ্রামের আব্দুল আজিজের মেয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতী খাতুন, ভিতরবন্দ ইউনিয়নের হাজীপুর এলাকার আবুবক্কর সিদ্দিকের মেয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রী মিনু আক্তার, গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী পূর্ব সরকারটারী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে জাকিয়া সুলতানা, গোপালপুর মন্ডলটারী গ্রামের কোরবান আলীর মেয়ে নেওয়াশী কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী আলেয়া খাতুন, বেরুবাড়ী ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের শামছুল আলমের মেয়ে বেরুবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী সীমা খাতুন, রামখানার নাখারগঞ্জ এলাকার খায়রুল আলমের মেয়ে ও নাখারগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী খালেদা খাতুন ও রায়গঞ্জ ইউনিয়নের ইদ্রিস আলীর মেয়ে ও রায়গঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী ইশফা খাতুন।

এসব শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সময় বাড়ি থেকে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিলে তারা নিজেরাই প্রতিবাদ করে বিয়ে ভেঙে দেন। তারা বলেন, আগে মানুষের মতো মানুষ হতে চাই। এরপর বিয়ে করতে চাই। শুধু নিজের জন্য নয়, সমাজের জন্য কিছু করতে চাই।

সম্মাননা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূর আহমেদ মাছুম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আমিনা বেগম, যুব উন্নয়ন অফিসার মনজুর আলম, বিবিএফজি প্রজেক্টের উপজেলা সমন্বয়কারী রবিউল ইসলাম, উপজেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য জাকিয়া সুলতানা বুবলী প্রমুখ।