কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দীঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার পরিকল্পনা আগেই করেছিল ইকবাল হোসেন। রিমান্ডে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানিয়েছে সে। 

এদিকে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে থাকা ইকবালসহ ৪ আসামির ৫ দিনের রিমান্ড মঙ্গলবার শেষ হওয়ায় বুধবার তাদের আবারও আদালতে তোলা হবে। এ ঘটনার অধিকতর তদন্ত এবং প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করতে তাদের আরও ৫ দিনের রিমান্ড চাওয়া হতে পারে। 

মণ্ডপকাণ্ডে জেলার কোতয়ালিসহ অপর ৩ থানায় দায়েরকৃত মোট ১২টি মামলার মধ্যে সিআইডি ৫টি মামলা তদন্ত করছে। বিকেলে সিআইডি কুমিল্লা অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজওয়ান সমকালকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি সমকালকে বলেন, ইকবাল  হঠাৎ ওই রাতেই পরিকল্পনা করে মণ্ডপে কোরআন রাখেনি। কোরআন রাখার পূর্বপরিকল্পনাসহ নেপথ্যে অনেক কিছু জানা গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তা এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না। 

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, মণ্ডপকাণ্ডে গ্রেপ্তার ইকবালসহ ৪ জনের ৫ দিনের রিমান্ড শেষ হয়েছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের বুধবার আদালতে হাজির করে আবারও ৫ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।

সিআইডি সূত্র জানায়, দুই দফায় রিমান্ডে ইকবাল, ৯৯৯-এ ফোন করা ইকরাম এবং মাজারের সহকারী খাদেম ফয়সাল ও হুমায়ুনের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও যেসব সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম তদন্তে উঠে এসেছে ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। 

এদিকে কুমিল্লা টাইমস নামের অনিবন্ধিত একটি নিউজ পোর্টালের সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন শিমুল ও তার ভাই নির্বাহী সম্পাদক ফয়সাল মবিন পলাশ সোমবার বিকেলে জবানবন্দি দেওয়ার পর থেকে ঘটনার দিন পূজামণ্ডপ কাণ্ডে যারা ঘটনার লাইভ করেছিল তাদের অনেকেই ফেসবুক থেকে ভিডিও সরিয়ে নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে সিআইডির একাধিক সূত্র জানায়, ঘটনার দিন ফেসবুকে লাইভ করেছে এমন অনেকের তথ্য তাদের হাতে এসেছে। কেউ তা সরিয়ে নিলেও ছবি ও ভিডিও স্ক্রিনশট সিআইডির কাছে রয়েছে। যাচাই-বাছাই করার পর সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে গত ১৩ অক্টোবর সকাল থেকে মণ্ডপকাণ্ডে জেলায় কোতয়ালি, সদর দক্ষিণ, দাউদকান্দি ও দেবিদ্বার থানায় দায়েরকৃত ১২টি মামলার মধ্যে কোরআন অবমাননা, 
ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৫টি মামলা তদন্তের জন্য সিআইডির কাছে এসেছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে একটি মামলা জেলার সদর দক্ষিণের এবং অপর ৪টি কোতয়ালি মডেল থানায় দায়েরকৃত।