পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ছাত্রলীগ নেতা ও বিএনপি সমর্থক মিলে এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় ২৩ দিন পর মামলা হয়েছে। কিন্তু মামলার তিনদিন হলেও আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিচার নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে ধর্ষণের শিকার কিশোরীর পরিবার।

পুলিশ জানায়, গত রোববার সকালে কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল আলিম, বিএনপি সমর্থক দুলুসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ভাঙ্গুড়া থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। মামলার ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও এখনও আসামি গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী (১৩) জেলার চাটমোহর উপজেলার বাসিন্দা।

মামলার আসামিরা হলেন, ভাঙ্গুড়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মেন্দা মাস্টার পাড়া মহল্লার আব্দুল জলিলের ছেলে পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম (৩০), ভাঙ্গুড়া সদর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের মরহুম খুরজান মণ্ডলের ছেলে বিএনপি সমর্থক দুলু (২৮) এবং চাটমোহরের রেলবাজার এলাকার রানা (২১) নামে এক যুবক।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা ও বিএনপি সমর্থক দুজনই সংবাদকর্মীদের কাছে ওই কিশোরীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তারা টাকার বিনিময়ে এ কাজ করেছেন বলে জানান। তাদের এ স্বীকারোক্তির অডিও ক্লিপ ও একটি ভিডিও চিত্র সংবাদকর্মীদের কাছে সংরক্ষিত আছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর শুক্রবার বিকেলে ওই কিশোরী তার প্রতিবেশী চাচাতো ভাই রানার সঙ্গে ভাঙ্গুড়া শিশুকুঞ্জ পার্কে বেড়াতে আসেন। এ সময় রানা তার পূর্ব পরিচিত ছাত্রলীগ নেতা আলিম ও দুলুর সঙ্গে কিশোরীকে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর তারা চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে কৌশলে কিশোরীকে ভাঙ্গুড়া শরৎনগর বাজারের গরুহাটা কেজি স্কুল সংলগ্ন পৌর ছাত্রলীগের অফিসে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এবং বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন; অন্যথায় তাকে মেরে ফেলার ভয় দেখান।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মু. ফয়সাল বিন আহসান বলেন, গত রোববার সকালে ওই মেয়ের বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্তাধীন। এছাড়া মেয়েটির মেডিকেল সম্পন্ন হয়েছে।