বরিশাল মহানগরসহ বিএনপির ৩টি সাংগঠনিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কমিটি গঠন নিয়ে ৬ মাস ধরে চলছিল নানা গুঞ্জন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অনুমোদিত বরিশাল মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক কমিটি বুধবার ঘোষণা করা হয়।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, তিন কমিটির মধ্যে শুধু মহানগরে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব ছাড়াও একজন কো-আহ্বায়ক রাখা হয়েছে। আহ্বায়ক কমিটি পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবে।

তিন কমিটি গঠন নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যমণি ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগরের সদ্য সাবেক কমিটির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার। টানা তিন দশক ধরে বরিশালে একক আধিপত্য তার। তিনি আহ্বায়ক কমিটির নেতৃত্বে আসতে পারবেন কিনা- সেটাই ছিল প্রধান আলোচ্য বিষয়। শেষ পর্যন্ত সরোয়ার ও তার অনুসারীদের বাদ দিয়েই কমিটি গঠন করা হয়। 

তিন সাংগঠনিক কমিটির আহ্বায়ক, সদস্য সচিবসহ সবাই সরোয়ারবিরোধী বলয়ের নেতা হিসেবে পরিচিত। এমনকি তারা মজিবর রহমান সরোয়ারের আধিপত্য খর্ব করতে গত এক বছরের বেশি সময়ে প্রকাশ্যে পৃথক বলয় তৈরি করে কেন্দ্রে নানামুখী দেনদরবার করছিলেন। শেষ পর্যন্ত তারাই জয়ী হয়েছেন।

মহানগর কমিটিতে সদ্য সাবেক কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি মনিরুজ্জামান ফারুককে আহ্বায়ক এবং সাবেক সহসভাপতি সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মীর জাহিদুল কবিরকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। তিনি ছিলেন ৯০-এর দশকে মহানগর ছাত্রদল সভাপতি। কো-আহ্বায়ক হয়েছেন আশির দশকে জেলা ছাত্রদল সভাপতি আলী হায়দার বাবুল। এ তিনজনই বরিশালে সরোয়ারবিরোধী বলয়ের নেতৃত্বদানের প্রথম সারিতে ছিলেন।

বরিশাল দক্ষিণ জেলা কমিটিতে আহ্বায়ক হয়েছেন অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান নান্টু। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বরিশালে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন তিনি। সদস্য সচিব আক্তার হোসেন মেবুল সদ্য সাবেক মহানগর কমিটির সহসভাপতি। তিনি ছিলেন ৯০-এর দশকে জেলা ছাত্রদল সভাপতি। বরিশালে সরোয়ারবিরোধী বলয়ের নেতৃত্বদানের প্রথম সারিতে ছিলেন আক্তার হোসেন মেবুল। মজিবর রহমান নান্টুও বিভিন্ন সময়ে সরোয়ারের একক আধিপত্যের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। উত্তর জেলায় আহ্বায়ক হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান মো. শহীদুল্লাহ। সদস্য সচিব হয়েছেন '৮৬ সালে গৌরনদী সরকারি কলেজের ভিপি মিজানুর রহমান মুকুল।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, নতুন কমিটির নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে শক্তিশালী করে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবেন। নতুন নেতৃত্ব যোগ্য, ত্যাগী এবং দলের আদর্শের প্রতি নিবেদিত। 

এর আগে সর্বশেষ মহানগর কমিটি গঠিত হয় ২০১৩ সালের নভেম্বরে এবং দক্ষিণ জেলা ২০১৪ সালে ও উত্তর জেলা ২০১০ সালে গঠিত হয়েছিল।