কুমিল্লা নগরীর নানুয়ারদীঘির উত্তর পাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মামলায় প্রধান আসামি ইকবালসহ চার আসামিকে তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। 

বুধবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্রেট চন্দন কান্তি নাথের আদালতে এ আদেশ দেওয়া হয়। তবে সিআইডি এখনই তাদের রিমান্ডে নেবে না বলে লিখিতভাবে আদালতকে জানায়। তাই ইকবালসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এ মামলায় ২০০৯ সালের সন্ত্রাস দমন আইনের ৬, ৭ ও ৯ ধারা যোগ করার আবেদনও করেছে সিআইডি।

এদিকে নগরীর ঠাকুরপাড়া কালী গাছতলা কালী পূজামণ্ডপে হামলা, ভাঙচুর এবং ওই এলাকায় সহিংসতার ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার ১৭ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন একই আদালত।

আদালত ও সিআইডি সূত্রে জানা যায়, নগরীর নানুয়ারদীঘির পাড়ের ঘটনায় পুলিশের মামলার প্রধান আসামি ইকবাল, ৯৯৯-এ পুলিশকে ফোন করা ইকরাম এবং দারোগাবাড়ি মাজারের সহকারী খাদেম হুমায়ুন কবির ও ফয়সাল আহমেদের তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পরিদর্শক আতিকুর রহমান আসামিদের আদালতে হাজির করে তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বুধবার বিকেল ৪টার দিকে আদালত ভবন থেকে বের হয়ে সিআইডির কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজওয়ান সাংবাদিকদের বলেন, 'ঘটনাটি স্পর্শকাতর ও জাতীয়-আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় এবং এ যাবৎ প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্টদের খোঁজ করতে সময়ের প্রয়োজন। তাই আমরা এখনই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করব না, পরে হয়তো তাদের রিমান্ডে আনব। লিখিতভাবে বিষয়টি আমরা আদালতকে অবহিত করেছি। তাই আপাতত তারা কারাগারেই থাকবে।'

এদিকে গত ১৩ অক্টোবর নগরীর ঠাকুরপাড়া এলাকার পূজামণ্ডপে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার ২১ জনের মধ্যে ১৮ জনকে বুধবার আদালতে হাজির করা হয়। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হুমায়ন কবির এ মামলার ১৮ আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন জানান। একই আদালতের বিচারক ১৭ জনের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।