চট্টগ্রাম নগরের উত্তর কাট্টলীতে বাসায় গ্যাসের আগুনে দগ্ধ ছয়জনের মধ্যে সাজেদা বেগম নামের ৪২ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। 

এ ঘটনায় ওই ভবনের মালিক মমতাজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ এক দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।

আগুনের ঘটনায় দগ্ধ আরও পাঁচজন চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদের প্রত্যেকের শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। 

বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাড়ির মালিকের গাফিলতি এবং বাসায় বাতাস নির্গমনের যথাযথ ব্যবস্থা না রাখার কারণেই এক বছরের ব্যবধানে ভবনটিতে দুইবার আগুনের ঘটনা ঘটেছে।

সাজেদা বেগমের স্বামী জামাল শেখের অভিযোগ, ঘরের ভেতরে এক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের গন্ধ পাওয়ায় বিষয়টি ভবনের কেয়ারটেকারকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) কামরুল হাসান জানান, গ্রেপ্তার ভবন মালিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলেও শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

আকবর শাহ থানার ওসি জহির হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই ভবন মালিক মমতাজ মিয়া গা-ঢাকা দেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে নগরের কাট্টলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভাড়াটিয়ারা গ্যাসের গন্ধ পাওয়ার বিষয়টি জানানোর পরও কেন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেননি, তা জানতে চাওয়া হবে তার কাছ থেকে। মামলার আরেক আসামি ভবনটির কেয়ারটেকার ও মমতাজ মিয়ার শ্যালক মোহাম্মদ বখতিয়ারকে গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান ওসি।

সোমবার রাতে ছয়তলা ভবনের একটি ফ্ল্যাটে গ্যাসের আগুনে দগ্ধ হন এক পরিবারের ছয়জন। পরিবারের এক সদস্য ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে বৈদ্যুতিক ব্যাট দিয়ে মশা মারতে গেলে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। বাসাটির গ্যাসলাইনে লিকেজ থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের কর্তা জামাল শেখ বাদী হয়ে আকবর শাহ থানায় ভবনটির মালিকসহ দু'জনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। মামলার এজাহারে মালিকের অবহেলার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

গত বছরের ৯ নভেম্বরও ওই ভবনের একই ফ্ল্যাটে গ্যাসের আগুনে দগ্ধ হন সাতজন।