চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কর্তৃপক্ষ নির্মাণাধীন ভবনে দুটি ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ওই ভবনের ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা বলছেন, এ ধরনের ভবনে পরীক্ষা নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

শুক্রবার কলা অনুষদভুক্ত 'বি১' এবং সমাজবিজ্ঞান অনুষদভুক্ত 'ডি' উপ-ইউনিটের ওই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। দুই উপ-ইউনিটে মোট পরীক্ষার্থী ৪ হাজার ৯২২ জন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিনেট সদস্য সমকালকে বলেন, 'ওই ভবনের কাজ এখনও শেষ হয়নি। নেই কোনো আসবাবপত্রও। যতটুকু শুনেছি বাইরে থেকে চেয়ার-টেবিল ভাড়া করে আনা হচ্ছে। আমরা দেড় লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিতে পারলাম। আর সামান্য ৫ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য নির্মাণাধীন ভবন কেন লাগছে তা মাথায় আসছে না। এগুলো মূলত জনগণের টাকা জলে ফেলানো ছাড়া আর কিছুই নয়।'

বুধবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরা পুরো নির্মাণ প্রকল্প। লোহার গেট পেরিয়ে ভবনে ঢুকে দেখা যায় লরি থেকে চেয়ার টেবিল নামাচ্ছেন শ্রমিকরা। চারদিকে নির্মাণ শ্রমিকদের কাজ করার শব্দ। লরিচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের বিভিন্ন স্কুল থেকে এসব চেয়ার-টেবিল আনা হচ্ছে। ভবনের মূল ফটকের সামনে কয়েকজন শ্রমিক বালু দিয়ে ছোট ছোট গর্ত ভরাট করছেন। অন্যপাশে অবর্জনার স্তূপে আগুন দেওয়া হয়েছে। এই ভবনের ৩৬টি কক্ষে নেওয়া হবে পরীক্ষা।

ভবনটির নির্মাণকাজ করছে যুবলীগের বহিস্কৃত নেতা জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠান। কাজটি তদারক করছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবুল মনসুর জামসেদ। তিনি সমকালকে বলেন, 'ওই ভবনের কাজ প্রায় শেষ। তবে এখনও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যখন পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলেছে, তখন আমরা বারবার বলেছিলাম নির্মাণকাজ চলছে। এ অবস্থায় আমরা কক্ষ দিতে পারব না। তারা কেন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা তারাই ভালো বলতে পারবেন।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) ছৈয়দ জাহাঙ্গীর ফজল সমকালকে বলেন, ভবনের নির্মাণকাজ এখনও চলছে। মোট কাজের প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। কর্তৃপক্ষ তাকে চিঠি দিয়ে ওই ভবনে পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছে। তিনি সে অনুযায়ী কাজ করেছেন।'

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক সমকালকে বলেন, প্রকল্পটি নিয়ে শুরু থেকেই জটিলতা ছিল। জাল কাগজ দিয়ে কাজটি হাতিয়ে নিয়েছিল ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দুর্নীতি দমন কমিশনও এর সত্যতা পায়। দুদক এটি নিয়ে মামলাও করে। এরপরও তিন দফা সময় বাড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে কাজ করাচ্ছে। তাই কাজের অগ্রগতি দেখাতেই মূলত ওখানে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

জানতে চাইলে বি১ উপ-ইউনিটের সমন্বয়ক ড. মোহাম্মদ মহীবুল আজিজ সমকালকে বলেন, 'যারা পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারাই ভালো বলতে পারবেন নির্মাণাধীন ভবনে পরীক্ষা কেন নিচ্ছে। আমাকে বলা হয়েছে ওই ভবনে পরীক্ষা নিতে হবে। আমরা নেব। এর বেশি কিছু জানি না।'

এ বিষয়ে কথা বলতে উপাচার্য শিরীণ আখতারকে মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল করেও সাড়া মেলেনি। উপ-উপাচার্য বেনু কুমার দে সমকালকে বলেন, উপাচার্য প্রথম থেকেই ওই ভবনে ভর্তি পরীক্ষা নিতে চেয়েছিলেন। তবে অন্য ইউনিটগুলোতে শিক্ষার্থী বেশি থাকায় নেওয়া যায়নি। ওখানে কোনো ঝুঁকি নেই। বাইরে থেকে চেয়ার-টেবিল আনার ব্যাপারে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস চলছে। তাই অন্য জায়গা থেকে আনা হয়েছে।