কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক হামলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষতিগ্রস্ত সব মন্দির ও বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে জাতীয় হিন্দু মহাজোট। নেতারা বলেছেন, সাম্প্রদায়িক হামলার সব ঘটনাই পূর্বপরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে দুস্কৃতকারীরা এটাকে উপজীব্য করে একের পর এক সহিংস ঘটনা ঘটিয়েই চলছে।

শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন শেষে সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে এর আয়োজন করা হয়।

এতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক। উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট দীনবন্ধু রায়, প্রধান সমন্বয়কারী বিজয় কৃষ্ণ ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার পাল, নরেশ হালদার, অ্যাডভোকেট প্রতিভা বাকচী, কিশোর বর্মণ, দুলাল কর্মকার, সুশান্ত চক্রবর্তী প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরে জানানো হয়, এসব ঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের পাঁচজন নিহত, ধর্ষণের শিকার পাঁচজন, ধর্ষণচেষ্টার শিকার পাঁচজন, চার শতাধিক নারী লাঞ্ছিত এবং সারাদেশে আহত হয়েছেন ৬১১ জন। এ সময় ৩১টি মন্দির ও ২৪১ বাড়ি আগুনে ভস্মীভূত, ২২৭টি পূজামণ্ডপ ভাঙচুর, ৭৪৭টি হিন্দু বাড়িঘরে হামলা, ৯৯৪টি প্রতিমা ভাঙচুর ও আগুনে ভস্মীভূত এবং ৩১টি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে, এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৭ জনকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১১ হাজার ৫০৭টি হিন্দু পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

এ সময় বাংলাদেশের এই ন্যক্কারজনক ঘটনার জের ধরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে বেশকিছু মসজিদ ভাঙচুর ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়াসহ মুসলমানদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার নিন্দা জানানো হয়। সেইসঙ্গে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং হিন্দু সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে ও সংখ্যালঘু সম্প্র্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা পুনর্বহাল এবং সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।