পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, ডিজেলের দাম বৃদ্ধি অবশ্যই চিন্তার বিষয়, মূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবকিছু সরকারের নিয়ন্ত্রণে নয়; আমদানি, সরবরাহ এবং চাহিদার উপর অনেক সময় মূল্য নির্ধারিত হয়। ডিজেল কিংবা পেট্রোল আমরা তৈরি করি না, যেখানে ডিজেল কিংবা পেট্রোল উৎপাদন হয়, সেখানের দাম বাড়ায় আমাদের বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ডিজেলের দামের বিষয়টি সরকারের চিন্তার মধ্যেও আছে, ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির মাশুল কেবল জনগণের উপর যাতে না পড়ে সেই উদ্যোগ থাকবে সরকারের।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে আছেন, সেখান থেকেই তিনি খোঁজ রাখছেন। আমরা চেষ্টা করবো জনগণের ব্যাথাটা যাতে কমে। তবে এই বিষয়ে ধর্মঘট করে হরতাল করে খুব বেশি উপকার হবে না, সমাধান হবে না, একসঙ্গে বসে ঠাণ্ডা মাথায় সমাধানের চিন্তা করতে হবে। 

শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাসনরাজা মিলনায়তনে ৫০ তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কিছুদিনের মধ্যেই শিক্ষিত বেকার যাদের বলা হয়, তাদের জন্য কাজ ও কাজের জায়গা বাছাই করা হবে। কুড়িগ্রাম যাব না, সুনামগঞ্জ যাব না, ঢাকায় থাকব যারা বলে তাদের জন্য কিছু খবর আছে এই দেশে, এই ধরনের বাছাইয়ের দিন শেষ।

মন্ত্রী বলেন, নতুন নতুন কাজ সৃষ্টি হচ্ছে, তবে একটু সময় লাগবে। কভিড যে পরিমাণে আমাদের ক্ষতি করেছিল, সে ক্ষতি কাটিয়ে উঠে আমরা আগের জায়গায় যাচ্ছি।

তিনি বলেন, সম্প্রতি কুমিল্লাসহ দেশের কয়েকটি স্থানে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। এগুলো কোনো ধার্মিক করেননি, প্রকৃত অর্থে যারা ধার্মিক নয়, এসব মানুষ এই হিংসাত্বক কাজ করে আমাদের কলুষিত করেছে। ধর্মে হিংসার কোনো জায়গা নেই।

এর আগে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে বেলুন উড়িয়ে সমবায় দিবসের উদ্বোধন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। পরে র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শেষে হাসন রাজা মিলনায়তনে আলোচনা সভা হয়। 

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন- সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, পৌরসভার মেয়র নাদের বখত, সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন আহমেদ, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ নিলীমা চন্দ, জেলা সমবায় কর্মকর্তা বশির আহমদ প্রমুখ।