সাভারের রানি নামে গরুর পর এবার রাজশাহীতে ‘বিশ্বের সবচেয়ে ছোট’ জীবিত গরু পাওয়া গেছে বলে দাবি উঠেছে। গরুটির মালিক আরাফাত রুবেল এর নাম দিয়েছেন মাফিন। রাজশাহী মহানগরীর রামচন্দ্রপুর কালুমিস্ত্রির মোড়ে নিজ বাড়িতেই রেখেছেন গরুটি। গরুটিকে দেখার জন্য অনেকেই এখন রুবেলের বাড়িতে ভিড় করছেন।

বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গরু হিসেবে সম্প্রতি পরিচিতি পায় সাভারের রানি। ২০ ইঞ্চি উচ্চতার রানি মারা যাওয়ার পর বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গরু হিসেবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে তার নাম উঠে। রানির ওজন ছিল ২৬ কেজি। এর মৃত্যুর পর গাজীপুরের শ্রীপুরে ‘টুনটুনি’ নামে ২৪ ইঞ্চির একটি গরু পাওয়া যায়। এর ওজন ২২ কেজি, লম্বায় ৩৩ ইঞ্চি। তবে টুনটুনির বয়স ১৪ মাস। দাঁতও উঠেনি। ফলে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে টুনটুনির উচ্চতা বাড়ার সম্ভাবনা আছে।

আরাফাত রুবেল জানান, রানি ছিল মেয়ে গরু। সেটি এরমধ্যে মারা গেছে। এদিকে তার মাফিন ষাঁড়। এর উচ্চতা সাড়ে ২৩ ইঞ্চি। দুই দাঁতের প্রাপ্তবয়স্ক মাফিন লম্বায় ২৮ ইঞ্চি। ওজন ১৮ কেজি। বয়স দুই বছরের বেশি হওয়ায় দুটি দাঁত উঠেছে। এর আর বড় হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সে হিসেবে দেশ এবং বিশ্বের সন্ধানপ্রাপ্ত সবচেয়ে ছোট গরু এখন মাফিন।

রুবেল জানান, রানি মারা যাওয়ার পর তিনি এ ধরনের ছোট গরু খুঁজছিলেন। সপ্তাহখানেক আগে জুয়েল রানা নামে এক ব্যক্তি সাতক্ষীরার কলারোয়া থেকে এই গরুটি ঢাকার গাবতলী হাটে তোলেন। তার কাছ থেকে গরুটি তিনি ২৫ হাজার টাকায় কিনে নেন। এরপর তিনি গরুটির নাম রাখেন মাফিন।

 

গিনেস রেকর্ডের তথ্য অনুসারে, ২০১৫ সালে ভারতের কেরালা রাজ্যে পাওয়া ‘মানিক্যাম’ নামে গরুর উচ্চতা ছিল ২৪ ইঞ্চি। ওজন ছিল ৪০ কেজি। বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গরু হিসেবে গিনেজ বুকে স্বীকৃতি পেয়েছিল এটি। এরপরই মানিক্যামের রেকর্ড ভেঙে সবচেয়ে ছোট গরুর তালিকায় উঠে রানির নাম।

আরাফাত রুবেল বলেন, হিসেবে অনুযায়ী জীবিত গরুর মধ্যে এখন বিশ্বের সবচেয়ে ছোট মাফিন। গিনেস বুকে নাম উঠতে হলে গরুটিকে অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে। আমার গরুটি প্রাপ্তবয়স্ক। তাই সবচেয়ে ছোট গরুর স্বীকৃতি দিতে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আমি গিনেস কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করব।

শনিবার সকালে মাফিনকে দেখতে রুবেলের বাড়িতে এসেছিলেন মহানগর প্রাণিসম্পদ দপ্তরের (বোয়ালিয়া) উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফজলে রাব্বী। তিনি বলেন, মাফিন প্রাপ্তবয়স্ক এবং পুরোপুরি সুস্থ্য একটি গরু। এটা বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গরু কি-না, তা বলতে পারব না। তবে গরুটা ছোটই আছে। জেনেটিক কারণে গরুটি ছোট বা বেটে আকৃতির।

আরাফাত রুবেল এও বলেন, গরুটি বিক্রির কোনো চিন্তা নেই। তবে রাজশাহীর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ চাইলে বিনামূল্যে এটি দান করব। তবে দাতা হিসেবে আমার নাম লেখা থাকতে হবে। এছাড়া যদি প্রাণিসম্পদ বিভাগ গবেষণার জন্য চায়, তাদেরও দিয়ে দেব।