গণপরিবহণ ও দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কক্সবাজারে আটকেপড়া পর্যটকদের বিশেষ ব্যবস্থায় চট্টগ্রাম পৌঁছে দিচ্ছে জেলা পুলিশ। শনিবার বিকেল ৩টার দিকে জেলা পুলিশের ফেসবুক পেজে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মো. রফিকুল ইসলাম এই ঘোষণা দেওয়ার পর সন্ধ্যা থেকেই পর্যটকদের পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ফেসবুকে পুলিশ সুপার লেখেন— ‘পর্যটন শহর কক্সবাজারে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত যেসব পর্যটক বাস ধর্মঘটের কারণে নিজ গন্তব্যে ফিরতে পারছেন না, তাদের জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে কক্সবাজার জেলা পুলিশের সহায়তায় নিজস্ব পরিবহণে কোনো প্রকার ভাড়া ছাড়াই চট্টগ্রাম জেলায় পৌঁছে দেওয়া হবে।’

তিনি লেখেন, ‘কক্সবাজার থেকে ফিরে যেতে আগ্রহীদের জেলা পুলিশ লাইনসে যাওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। পর্যটকদের- ০১৩০২০১০৮৪৭৪ মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করা হলো।’

জানা যায়, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ঘোষণা দেওয়ার পর চট্টগ্রাম থেকে পুলিশের কয়েকটি বাস শনিবার বিকেলেই কক্সবাজার পৌঁছায়। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে- এমন মানুষদের এই গাড়িতে করে চট্টগ্রাম পৌঁছে দেওয়া হবে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আটকে পড়া যাত্রীদের নিয়ে প্রথম গাড়িটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।

পর্যটন শহর কক্সবাজারে বেড়াতে এসে প্রায় বিশ হাজার পর্যটক আটকা পড়েছেন। এসব পর্যটক গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ভোরে কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় তারা নিজ গন্তব্যে ফিরতে পারেননি। অনেক পর্যটক অতিরিক্ত ভাড়ায় উড়োজাহাজে কক্সবাজার ত্যাগ করেছেন। যাদের সেই সামর্থ্য নেই তারা ছোট যানবাহনে কক্সবাজার ছাড়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু অন্য সময়ের চেয়ে ভাড়া দুই-তিনগুণ বেশি হওয়ায় তারা কক্সবাজার ত্যাগ করতে পারছেন না।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য গণপরিবহন, মালবাহী ট্রাক ও দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয় পরিবহন সংগঠনের নেতারা। হঠাৎ যান চলাচল বন্ধের ঘোষণায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষুদ্র যানবাহন জেলাকেন্দ্রিক সড়ক বা চট্টগ্রামের পথে চলাচল করছে। তবে সেসব যানবাহন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দিগুণ টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।