জ্বালানি তেলের বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের দাবিতে চলমান ধর্মঘটে চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাস চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন পরিবহন মালিকদের একাংশ। শনিবার ধর্মঘট চলাকালে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে চলাচলকারী কিছু গাড়িকে বাধা দেওয়া হয়। এই ঘটনায় সেসব শ্রমিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হয় পরিবহন মালিকদের একাংশ। পরে তারা রোববার থেকে রাস্তায় গণপরিবহন চালানোর ঘোষণা দেন। তবে ৩ থেকে ৫ টাকা করে বাড়তি ভাড়া নিয়ে বাস চালানোর কথা জানিয়েছেন তারা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বেলাল সমকালকে বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আমরা পরিবহন ধর্মঘট পালন করছি। এ কারণে আমরা রাস্তায় গাড়ি নামাচ্ছি না। রাস্তায় আমাদের কোনো কমসূচিও নেই। কিন্তু আজ (শনিবার) বিভিন্ন জায়গায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে কিছু উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিক চলাচলকারী সিএনজি চালিত অটোরিকশা, অটো টেম্পুসহ বিভিন্ন ধরনের গাড়িকে চলাচলে বাধা দেয়, পথে আটকে দেয়।’

তিনি বলেন, ‘এই ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের ছিলো না। কোনো একটি মহল হয়তো রাজনৈতিভাবে ফায়দা নিতে এমন কাজ করাচ্ছে। এজন্য আমরা কাল (রোববার) বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের পাশাপাশি লুসাই ও যাত্রী সেবা সার্ভিসও বাস চালাবে।’

তবে তেলের দাম বাড়ায় ৩ থেকে ৫ টাকা করে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হবে জানিয়ে বেলাল বলেন, ‘কাউন্টারভিত্তিক সার্ভিস মেট্রো প্রভাতী ও সোনার বাংলা সার্ভিসে সর্বনিম্ন ভাড়া ৩ টাকা বাড়িয়ে ১৩ টাকা এবং সাধারণ লোকাল বাসগুলো সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ টাকা থেকে আরও ৫ টাকা বাড়িয়ে ১০ টাকা করে নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে যখন যে হারে ভাড়া নির্ধারণ করা হবে তখন সে হারে ভাড়া নেওয়া হবে।’

বাস মালিকদের একটি অংশ বাস চালানোর ঘোষণা দিলেও অপর অংশের নেতারা বলছেন, সরকারের সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর তারা রাস্তায় বাস নামাবেন। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব মনজুর আলম মঞ্জু বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাবে। কিন্তু আমরা সেটা চাই না। এজন্য তেলের দাম কমানোর দাবিতে আমরা ধর্মঘট পালন করছি। তবে রোববার সরকারের সঙ্গে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সভায় যে সিদ্ধান্ত হবে সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।’

এদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুক্রবারের মতো শনিবারও বন্দর নগরী চট্টগ্রামে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। শনিবারও অভ্যন্তরীণের পাশাপাশি দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ ছিল। অনেক স্থানে উচ্ছৃঙ্খল কিছু পরিবহন শ্রমিককে চলাচলকারী বিভিন্ন গাড়িকে বাধা দিতেও দেখা যায়। 

সকালের দিকে নগরীর টাইগারপাস মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পরিবহন শ্রমিকরা। এ সময় সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনকে আটকে দেওয়া হয়। অবশ্য ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

শনিবার নগরীর কয়েকটি সড়কে কিছু সময় পর পর বিচ্ছিন্নভাবে কিছু বাস-মিনিবাস চলাচল করতে দেখা যায়। কালুরঘাট-বহদ্দারহাট-আগ্রাবাদ সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে এসব বাস দেখা যায়। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি মো. মুছা বলেছেন, ‘পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার চান। কারণ ভাড়া বাড়ানো হলে গণপরিবহনে শ্রমিকদের সঙ্গে যাত্রীদের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তবে সকারের সঙ্গে যেহেতু একটি বৈঠক হতে যাচ্ছে, আমরা সেই বৈঠকের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি।’