সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের 'আত্মীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির' প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন শুরুর আগেই ছাত্রলীগের হামলা ও বাঁধার কারণে পণ্ড হয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

মঙ্গলবার সকালে শিক্ষার্থীরা এ মানববন্ধনের প্রস্তুতি নেন। দুপুর ১২টার দিকে কর্মসূচি শুরুর চেষ্টাকালে বাঁধার মুখে পড়েন তারা। ব্যবস্থাপনা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যায়ের ছাত্রলীগ নেতা নাহিয়ান আহম্মেদ এবং একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক ডলফিনের নেতৃত্বে মারধর ও ধস্তাধস্তির কারণে কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত হতে পারেনি শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর চুলকাটার ঘটনায় শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের বরখাস্তের দাবিতে আন্দোলনের মুখপাত্র শামীম হোসাইন ও আবু জাফর বলেন, 'শিক্ষকদের আত্মীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও নানাবিধ দুর্নীতির প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন কর্মসূচির প্রতি আমরাও সমর্থন দিয়েছি। কিন্তু কতিপয় ছাপোষা শিক্ষার্থীর বাঁধার কারণে মানববন্ধন শেষ পর্যন্ত হয়নি বলে জেনেছি।'

সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, গতকাল একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় শিক্ষকদের দুর্নীতির খবর দেখে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মানবন্ধন কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করি। কিন্তু গুটিকয় শিক্ষার্থী দুর্নীতিবাজ শিক্ষকদের প্ররোচনায় আমাদের মারধর করেন। এ সময় আমাদের গুম করার হুমকি দিয়েছেন ওমর ফারুক ডলফিন ও তার দল।

কথিত ছাত্রলীগ নেতা ব্যবস্থাপনা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাহিয়ান আহম্মেদ বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের এখনও কোনো কমিটি নেই। কমিটি হলে ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী আমি। ভালো করেই জানি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কী হচ্ছে। এ ধরনের বিশৃঙ্খল আন্দোলনের কারণে দেশের কাছে আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। আমরা চাই সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে এখানে থাকুক, ভালোভাবে পড়াশুনা করুক। কিন্তু, বাম দলের  প্ররোচনায় তারা বিপদগামী হচ্ছে। বিষয়টি একদমই কাম্য নয়।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী বলেন, 'ভিসিসহ আমি ঢাকায় অবস্থান করছি। ক্যাম্পাসে মানববন্ধন কিংবা, অপ্রীতিকর ঘটনার খবর আমার জানা নেই।'

ভিসির দায়িত্বে থাকা ট্রেজারার আব্দুল লতিফ বলেন, 'একটি জাতীয় দৈনিকে দুর্নীতির খবর বেরিয়েছে শুনেছি, দেখিনি। ছাত্রদের মানববন্ধনের বিষয়টি জানা নেই।'

শাহজাদপুর থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ খান জানান, মানববন্ধন হওয়ার কথা ছিল, শেষ পর্যন্ত হয়নি।