বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সমান ভোট পেয়েছেন। তারা দু'জনই পেয়েছেন ৫ হাজার ৭০০ ভোট। ভোট গণনার সময় এক ভোট গণনা হয়নি দাবি করে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও তার সমর্থকরা। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে বরগুনা প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার নির্বাচন শেষে রাতে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে রিটার্নিং অফিসার ও সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজমুল হাসান এ ফল ঘোষণা করেন। পরে নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, ভোটের ফলাফল নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

এ সময় বরগুনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দিলীপ কুমার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিয়া শারমিনসহ দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নাজমুল ইসলাম নাসির বলেন, নৌকায় সিল দেওয়া একটি ব্যালট কেন্দ্রের বাইরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পরে সেটা তিনি পেয়ে ভোট গণনা কেন্দ্রে জমা দিতে গেলে সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেটি গ্রহণ করেননি। ফলে তার এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর ভোট সমান হয়েছে। তাকে হারানোর জন্য গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ বারী বাদল পুনরায় ভোট গণনা দাবি করে বলেন, তিনি এ নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। কিন্তু তাকে ষড়যন্ত্র করে সরকারদলীয় প্রার্থী জয়লাভ করতে দেননি। তাই পুনরায় ভোট গণনা হলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

এদিকে ভোটে সমতা হওয়ায় এ ইউনিয়নে কাউকেই চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। ফলে পুনরায় এই দু'জন প্রার্থীর মধ্যে নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু নৌকার প্রার্থী এ সিদ্ধান্ত না মেনে তার একটি ভোট কম গণনা করা হয়েছে দাবি করেন এবং নিজে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শহরের প্রধান সড়কটি অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে প্রায় দুই ঘণ্টার জন্য এই এলাকায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, ব্যালট বাক্সের বাইরে থেকে সিল মারা ব্যালট এনে গণনায় অন্তর্ভুক্ত করার কোনো সুযোগ নেই। এটি আইনবহির্ভূত। বালিয়াতলী ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট সমান হওয়ায় পুনরায় ওই ইউনিয়নে নির্বাচন হবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।