চলতি বছর হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গোৎসবের সময় কুমিল্লার মণ্ডপে হামলার ঘটনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো.ফরিদুল হক খান।

তিনি বলেন, আগামী কুমিল্লার ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সেজন্য সমাজের প্রতিটি ধর্ম, শ্রেণি ও পেশার মানুষকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

রোববার ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ধর্ম মন্ত্রণালয় পরিচালিত ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায়  আন্তঃধর্মীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরিদুল হক খান এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, ‘দুর্গাপূজার সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য পরিকল্পিতভাবে কুমিল্লার ঘটনা ঘটিয়েছে অপশক্তি। ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। একটি গোষ্ঠী নির্বাচনকে সামনে রেখে  ধর্মকে টেনে এনে রাজনীতি করে এ দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইছে। তাদের এ উদ্দেশ্য সফল করতে দেওয়া হবে না।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় উন্মাদনা যেন না ছড়ানো হয় সেদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নজরদারি রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ফেসবুক ও ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখাগুলি নজরদারি করতে হবে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে। যারা উন্মাদনা সৃষ্টি করে তাদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা  নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মসজিদের মাইক ধর্মীয় কাজ ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। মসজিদের খুদবায় ইসলামের প্রকৃত ব্যাখা তুলে ধরতে হবে। ওয়াজ মাহফিলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নজরদারি করতে হবে।’

তিনি বলেন, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে তাদের আলোচনায় পারস্পরিক সহমর্মিতা, সহনশীলতা এবং অন্য ধর্মের প্রতি উদারতার বিষয়ে গুলোকে নিয়ে আসতে পারেন। পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রমে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহনশীলতার চর্চা বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে । 

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের  সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার, ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার, ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কনককান্তি দাস, ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু,হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ঝিনাইদহ জেলা শাখার সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুরেশ সমাদ্দার।