কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার উত্তর পান্ডুল গ্রামের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে আব্দুস সবুর (৩০) নামের এক প্রাইভেট শিক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার বিকেলে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক অম্লান কুসুম জিষ্ণু এই দণ্ডাদেশ দেন বলে নিশ্চিত করেছেন বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউর (পিপি) মো. আব্দুর রাজ্জাক। রায় ঘোষণার সময় সবুর আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি উত্তর পান্ডুল গ্রামের আ. নুরের ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, সবুরের বাড়িতে এসে একই গ্রামের মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই ছাত্রী প্রাইভেট পড়তো। ২০১৩ সালের ১৯ মে রাতে সবুর পরিকল্পিতভাবে ওই ছাত্রীকে বেশি সময় পড়ানোর উসিলায় আটকে রাখে। পরে রাত ৯টার দিকে ওই ছাত্রীকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে পথিমধ্যে একটি বাঁশ ঝাড়ের আড়ালে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর এ ঘটনা প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেন সবুর। 

রাতে ওই ছাত্রী ভয়ে বাড়ির কাউকে কিছু না বললেও পরদিন সকালে অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থতার কারণ জানতে চাইলে ঘটনাটি প্রকাশ করে দেয় ছাত্রীটি। ওইদিনই তাকে অসুস্থ অবস্থায় জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন ২১ মে তার বাবা বাদী হয়ে সবুরকে আসামি করে উলিপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর ধরে মামলার বিচার কাজ চলে। সমস্ত সাক্ষ্য প্রমাণে সবুরের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এই রায় দেন। 

রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পিপি আব্দুর রাজ্জাক এবং আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট এটিএম এনামুল হক চৌধুরী চাঁদ মামলাটি পরিচালনা করেন।