মহামারী করোনাভাইরাসের প্রকোপে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ছাত্রীদের বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধ্য করেছে পরিবার। তাই চলমান এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মেয়ে পরীক্ষার্থীই ছিল অনুপস্থিত।

তাড়াশ উপজেলায় চলমান এসএসসি পরীক্ষায় সাধারণ বিভাগে তিনটি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ হাজার ৭৫৩ জন। যার মধ্যে ছাত্র ৯৪৯ জন ও ছাত্রী ৭৬৪ জন। 

মানবিক এবং বিজ্ঞান বিষয়ে তিনটি পরীক্ষা কেন্দ্রের পরিসংখ্যান বলছে, ইতিহাস বিষয়ে ৬ জন ছাত্রী, বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য বিষয়ে ৪ জন ও রসায়ন বিষয়ে ৩ জন ছাত্রী অনুপস্থিত ছিল। 

তাড়াশ ইসলামিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৮ জন অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭ জনই ছাত্রী। 

তাড়াশ ইসলামিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মো.আব্দুস সালাম জানান, উপজেলার নাদো-সৈয়দপুর জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩ জন, বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের ২ জন ও বানিয়াবহু উচ্চ বিদ্যালয়ের ২ জনসহ মোট ৭ জন ছাত্রী এবার অনুপস্থিত রয়েছে। এরা সবাই বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে। 

দাখিল বিভাগের পরীক্ষায় ১৩৬ জন ছাত্রীর মধ্যে ২২ জন ছাত্রীই পরীক্ষায় অনুপস্থিত রয়েছেন। 

পরীক্ষা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, তাড়াশ ফজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে দাখিল পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিল ৪০৮ জন। এর মধ্যে ১৩৬ জন ছাত্রী ও ২২২ জন ছাত্র। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৩৬ জন ছাত্রীর মধ্যে ২২ জন ছাত্রী অনুপস্থিত। 

তাড়াশ ফজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো.আনিছুর রহমান বলেন, ‘অনুপস্থিত ছাত্রীদের বেশিরভাগেরই বিয়ে হয়ে গেছে।’

এসএসসি ভোকেশনাল দুটি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ছিল ৬৩০ জন। এর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ১৩৬ জন ও ছাত্রের সংখ্যা ৪৯৪ জন। তাদের মধ্যে ৮ জন ছাত্রী অনুপস্থিত ছিল। 

তাড়াশ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফকির জাকির হোসেন বলেন, ‘চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ছাত্রীদের অনুপস্থিতির কারণ শুধু বাল্যবিয়েই নয়, এর সাথে করোনাকালীন সময়ে সংসারের কাজের কারণে তাদের পরীক্ষায় যথাযথ প্রস্তুতি নিতে না পারাও অনুপস্থিতির অন্যতম কারণ।’ 

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেজবাউল করিম বলেন, ‘পরীক্ষায় যেন আর কোনো শিক্ষার্থী ঝরে না পড়ে সেজন্য আমরা কাজ করছি।’