কুষ্টিয়ায় ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা যুবলীগ সভাপতি রবিউল ইসলামের বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সাবেক এমপি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল হক চৌধুরীর ছেলে ইমরান চৌধুরী কলিন্সের বক্তব্য নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। দৌলতপুর উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী জামিরুল ইসলাম বাবুর পক্ষে নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে কলিন্স স্বতন্ত্র এক  প্রার্থীকে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

গত ১৬ নভেম্বর রাতে রিফাইতপুর ইউনিয়নের বিনতিপাড়া গ্রামে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী জামিরুলের পক্ষে বক্তব্য দেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। 

ওই ভিডিওতে ইমরান চৌধুরী কলিন্স বিএনপি নেতার ছেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী মন্টি সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলতে শোনা গেছে, ‘ভাই এখনও সময় আছে, আমরা কিন্তু এখনও আমাদের রুদ্ররূপ শুরু করিনি ভাই। এখনও সময় আছে, আপনার মান সম্মান নিয়ে ঘরে উঠুন। আমরা যদি রুদ্রমূর্তি ধারণ করি, এটা হবে আপনাদের জন্য খারাপ, আমাদের জন্যও খারাপ। আমরা আমাদের প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য কত কিছু করতে পারি, সে হয়তো আপনার ধারণা নেই। নৌকা পেয়েছে আমাদের জামিরুল ইসলাম বাবু ভাই।’

কলিন্স তার কয়েক মিনিটের বক্তব্যে আরও বলেন, ‘জামিরুল ইসলাম বাবু টোকেন চৌধুরীর প্রার্থী, রেজাউল হক চৌধুরীর প্রার্থী, মাহবুবউল আলম হানিফ সাহেবের প্রার্থী। তাই তাকে বিজয়ী করার জন্য আমাদের যা যা করার দরকার তাই করবো।’

বিনতিপাড়া গ্রামে রাতের এ সমাবেশে এলাকার কয়েকশ’ মানুষ তার এ বক্তব্য শোনেন। এ সময় বক্তব্য শুনে অনেকে হাততালি দেন। সভায় নৌকার প্রার্থী জামিরুল ইসলাম বাবুসহ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইমরান চৌধুরী বিএনপির প্রার্থীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, ‘আপনি আমাদের শ্রদ্ধাভাজন ভাই, আমি আপনাকে অনুরোধ করবো- লোকবল তুলে, সুন্দরভাবে মাইকিং করে অথবা সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জন করুন। এতে আপনারও ভালো, আপনার দলের লোকেরও ভালো। যদি কখনও বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসে, আপনি আবার নির্বাচন করবেন। আমরা সেদিন আপনাকে কিছু বলতে যাব না, কিন্তু এখন আমার দল ক্ষমতায়, আপনি কেন এখন নির্বাচন করে শুধু শুধু নিজের ভাই বোনকে বিপদে রাখবেন। আপনি যদি আপনার দলের লোককে ভালোবেসে থাকেন, আপনি যদি আপনার গ্রামের লোককে ভালোবেসে থাকেন তাহলে আপনি এই নির্বাচন বর্জন করে ঘরে উঠে বসে থাকুন। তা না হলে ভাই এই রক্তের খেলা কিন্তু বন্ধ হবে না। এই রক্তের দায়ভার কিন্তু আপনাকে নিতে হবে। আগামী ২৮ তারিখে কিন্তু আপনি ভোট সেন্টারে যেতে পারবেন না, নিজের ভোটটাও দিতে পারবেন না। শুধু শুধু আপনি আপনার ক্ষতি করছেন।’