নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খাঁনের বসত বাড়িতে রাতের আঁধারে ফের গুলি, হাতবোমা নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। 

শনিবার রাত পৌনে ৮ টার দিকে বসুরহাট পৌরসভা সংলগ্ন চরকাঁকড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা বসত ঘরে ছয়টি জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর, ১০-১২টি ককটেল ও ৫-৬ রাউন্ড গুলি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন খিজির হায়াত। 

এদিন নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও বসুরহাটের রাজনীতি নিয়ে খিজির হায়াতের বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে কাদের মির্জার  নির্দেশে  তার অনুসারীরা এ হামলা করেছে বলে তার  অভিযোগ। ঘটনার খবর পেয়ে  কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি অবিস্ফোরিত হাতবোমা উদ্ধার করেন।  এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এক মাস আগেও এই বাড়িতে একই কায়দায় হামলা হয়েছিল।   

খিজির হায়াত অভিযোগ করে বলেন, ‘বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। কোম্পানীগঞ্জে চলমান রাজনৈতিক বিরোধের জেরে শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে কাদের মির্জার অনুসারীরা  ৮-১০টি মোটরসাইকেল ও সিএনজি চালিত অটোরিকশা নিয়ে আমার গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাসভবনের ফটক ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয়ে তারা ছয়টি জানালার কাঁচ ভাঙচুর করে ১৫ মিনিট ধরে বেশ কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। হামলাকারীরা ঘরে ঢুকতে পারলে আমাদের প্রাণে মেরে ফেলত। ’ 

তিনি আরও বলেন, ‘জেলা শহর মাইজদীতে শনিবার নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কাদের মির্জা যেতে পারেনি। প্রতিনিধি সভার কার্ডগুলো আমার কাছে দেওয়া হয়। কাদের মির্জা ১৫-২০টি হাইস গাড়ি ভাড়া করে। কিন্তু তার কোনো লোক প্রতিনিধি সভায় যেতে পারেনি। এসব ঘটনার জেরে আজকে আমার বাড়িতে আবার হামলা চালানো হয়। এর আগে গত ৮ মার্চ বসুরহাট বাজারে কাদের মির্জার নেতৃত্বে অনুসারীরা আমার ওপর হামলা চালিয়ে ছিলো। এছাড়াও তার অনুসারীরা একমাস আগে আরও একবার আমার বাড়িতে হামলা চালায়। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ  নিয়ে দুইবার আমার বাড়িতে বোমা, গুলি ও হামলা চালায় কাদের মির্জার লোকজন।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোন রিসিভ হয়নি। মোবাইলে ও হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আনোয়ার হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। একদল দুর্বৃত্ত খিজির হায়াতের বাড়িতে এসে বোমা ফাটিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়ে গালমন্দ করে গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’