ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় দ্বিতীয় (১১ নভেম্বর) ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে পুটিজানা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডে সদস্য পদে দুই প্রার্থী ৬৪২ করে সমান ভোট পান। পরে উপজেলা নির্বাচন কন্ট্রোল রুমের দায়িত্ব প্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা পুনরায় নির্বাচন দেওয়ার ঘোষণা দেন। মধ্যরাতে এই ঘোষণা দিলেও রাত পোহাতে বদলে যায় ওই কেন্দ্রের ফল। এক প্রার্থীকে ৩ ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুটিজানা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র ছিল ১৭ নং সরাতীযা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নির্বাচনে মোরগ প্রতীক নিয়ে মো. খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে তালা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মো. আ. মান্নান। নির্বাচনের দিন সন্ধ্যায় ভোট গ্রহণ শেষে গণনা করে দুই প্রার্থীই সমান ৬৪২ ভোট করে পেয়েছেন বলে কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কর্তব্যরত প্রিজাইডিং অফিসার মাসুদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত শিটে জানা যায়। পরবর্তীতে  মধ্যরাতে উপজেলা নির্বাচন কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি অফিসার জেসমিন নাহারও দুই প্রার্থীর ভোট সমান হওয়ার কথা বলে পুনরায় এই ওয়ার্ডে নির্বাচন দেওয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু পরদিন শুক্রবার সকালে তালা প্রতীকে নির্বাচন করা মান্নানকে ৬৪২ ভোট পেয়ে ৩ ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করেন একই রিটার্নিং কর্মকর্তা। আর মোরগ প্রতীকের খলিলুর রহমানের ভোট দেখানো হয় ৬৩৯ ভোট। এই ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। 

এদিকে দুই প্রার্থীর সমান ভোট পাওয়ার ঘোষণার পর পরই মোরগ প্রতীকের প্রার্থী খলিলুর পুনরায় ভোট গণনার জন্য সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা উপজেলা রিটার্নিং অফিসার বরাবর আবেদন করেন। পাশাপাশি পুনরায় নির্বাচন চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরও আবেদন করেন। 

খলিলুর রহমান বলেন, ‘ভোট কেন্দ্রের ফলাফল শিটে দুজনের সমান ভোট ঘোষণায় আমি রিটার্নিং অফিসার বরাবর ভোট পুনর্গণনা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর পুনর্নির্বাচন চেয়ে অভিযোগ দিয়েছি।’

১৭ নং সরাতীযা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন ফুলবাড়িয়া সোনালী ব্যাংক শাখার জ্যেষ্ঠ ব্যাংক কর্মকর্তা মাসুদুল ইসলাম। ঘটনার পর ওই প্রিজাইডিং কর্মকর্তার খোঁজে ব্যাংকটির ওই শাখায় গেলে জানা যায় নির্বাচনের পরপরই তাকে ফুলপুর সোনালী ব্যাংক শাখায় বদলি করা হয়েছে। পরে তার ব্যক্তিগত মোবাইলে কথা হলে তিনি বলেন, আমি স্থানীয়দের চাপে পড়ে ফল পরিবর্তনে বাধ্য হই। কেন্দ্র থেকে দেওয়া শিটের ফলাফলই সঠিক। দ্বিতীয় শিটটি চাপের মুখে দিতে বাধ্য হই। 

এই বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা জেসমিন নাহার বলেন, ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা এবং নির্বাচনের প্রিজাইডিং কর্মকতা মাসুদুল ইসলাম আমাকে যে ফলাফল শিট দিয়েছেন আমি সেটা ঘোষণা করেছি।’ রাতের পুনঃভোটের ঘোষণার কথা স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি বলেন, ‘রাতে পাওয়া শিটে যাদের স্বাক্ষর ছিল, সকালে পাওয়া শিটেও একই ব্যক্তিদের স্বাক্ষর ছিল। সকালে বিজয়ী প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়েই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার দ্বিতীয় শিটটি জমা দিয়ে তড়িগড়ি চলে যান।’ তিনিও জানান, কেন্দ্র থেকে দেওয়া শিটের ফলাফলই সঠিক।  

রিটার্নিং কর্মকর্তার দুই প্রার্থীর ভোট সমান এবং পুনরায় নির্বাচন দেওয়ার ঘোষণার পর কিভাবে ফল বদলে গেল তা জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমাকে সমান ভোটের কথা রিটার্নিং অফিসার অবহিত করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে প্রিজাইডিং অফিসার স্বাক্ষরিত আরও একটি ফলাফল শিট কিভাবে তৈরি হলো আমি এ বিষয়ে অবগত নই।’

উল্লেখ্য, নির্বাচনের ৩ দিন পর উক্ত ওয়ার্ডের ১৭ নং সরাতীযা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র থেকে রিটার্নিং অফিসার জেসমিন নাহার স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় অব্যবহৃত প্রায় ছয়শ’ ব্যালট পেপার উদ্ধার করেন।