হাজারো দর্শক-ক্রেতার সমাগমে রোববার শেষ হয়েছে চার দিনব্যাপী আবাসন মেলা। রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব), চট্টগ্রাম এ মেলার আয়োজন করে। মেলায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকার ফ্ল্যাট-প্লট বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

এ ব্যাপারে রিহ্যাব চট্টগ্রামের মেলা কমিটির সদস্য এএসএম আবদুল গাফফার মিয়াজি সমকালকে বলেন, ‘চার দিনব্যাপী মেলায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকার প্লট ও ফ্ল্যাট বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ছিল। প্রায় আড়াইশ’ কোটি টাকার ফ্ল্যাট-প্লটের নিবন্ধন হয়েছে। মেলার শেষ দিন রোববার ছিল দর্শক-ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।’

নগরের পাঁচতারকা হোটেল র্যা ডিসন ব্লুতে প্লট ও ফ্ল্যাট বিক্রির এই মেলার চার দিনই ক্রেতা-দর্শকদের প্রচণ্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সব বয়সের নারী-পুরুষ সপরিবারে মেলায় বিভিন্ন আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের স্টলে ঘুরে ঘুরে সাধ ও সাধ্যের মধ্যে নিজেদের পছন্দের প্লট-ফ্ল্যাট দেখেছেন। কেউ কেউ বুকিংও দিয়েছেন। তবে গৃহঋণে সুদের হার কমলেও ফ্ল্যাটের মূল্য বেশি হওয়ায় অনেকেই হতাশা নিয়ে ফিরেছেন।

গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া মেলায় ২৯টি আবাসন প্রতিষ্ঠান, ছয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ১০টি নির্মাণসামগ্রী প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে এবার টাকা পরিশোধের ওপর আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো মূল্যছাড় দিয়েছে। মেলায় ক্রেতা-গ্রাহকদের ঋণসুবিধা দিতে ছয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। তারাও মেলায় তাৎক্ষণিক ঋণ অনুমোদনসহ সুদের ওপর ছাড় দিয়েছে।

এদিকে স্টলগুলো ঘুরে দেখা গেছে, অন্যবারের তুলনায় এবার তাৎক্ষণিকভাবে জমি বা ফ্ল্যাট বিক্রির প্রবণতা কমেছে। এবার ক্রেতাদের আগ্রহ ছিল মাঝারি আকারের রেডি ফ্ল্যাটের দিকে। কিন্তু দাম ছিল আকাশছোঁয়া। মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। মাঝারি আকারের ফ্ল্যাটের দামও কোটি টাকার ওপরে।

সিপিডিএলের প্রপার্টি কনসালট্যান্ট শফিউল আলম মুন্না বলেন, ‘চার দিনে তিন শতাধিক ক্রেতার সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তারা আমাদের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে নিবন্ধন করেছেন। এটি আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল। ক্রেতা ও দর্শক সমাগমে আমরা মুগ্ধ।’

২০১১ সাল থেকে স্থবিরতা থাকলেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুদের হার কমে আসায় চাঙ্গা হচ্ছে আবাসন খাত। ২০১৪ সালের হিসাবে, চট্টগ্রামে রিহ্যাবের সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ১০ হাজার ফ্ল্যাটের মধ্যে অবিক্রিত পড়েছিল পাঁচ হাজার। এখন তা হাজারের কমে নেমে এসেছে বলে রিহ্যাব সূত্রে জানা গেছে। তবে রেডি ফ্ল্যাটের সংখ্যা খুবই কম বলে জানান আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা।