বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে আটজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

সোমবার রাত ৯টার দিকে শ্রীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ইউপি চেয়ারম্যান হারুন মোল্লার ভাই বাড়ির সামনে এ সংঘর্ষ হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।  

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন মোল্লা ও আওয়ামী লীগ নেতা কাজী সাখাওয়াত হোসেন রুবেলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। হারুন মোল্লা স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথের সমর্থক এবং কাজী রুবেল বিরোধী গ্রুপের। স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। এরই জের ধরে সোমবার দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর মো. নোমান মোল্লা জানান, সোমবার রাতে তার ওয়ার্ডের বানঘাট বাজার জোর মসজিদে ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। কাজী সাখাওয়াত হোসেন রুবেলকে মাহফিলে আমন্ত্রণ জানানো হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি ৪-৫টি মোটরসাইকেলে মাহফিলের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। 

চেয়ারম্যান হারুন মোল্লার বাড়ির সামনের রাস্তা অতিক্রম করার সময় চেয়ারম্যানের ছেলে তানভীরের নেতৃত্বে রুবেল ও তার সঙ্গীদের মোটরসাইকেল থামানো হয়। তারা বাজারের মাহফিলে রুবেলকে যেতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে চেয়ারম্যানের সমর্থকরা হামলা চালায়। তারা কবির হোসেন খান ও হাসান মোল্লাকে কুপিয়ে জখম করেছে। এসময় চেয়ারম্যানের সমর্থকরা ৭-৮ রাউন্ড ফাকা গুলিবর্ষণ করেছে বলে জানান নোমান মোল্লা।

ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হারুন মোল্লা জানান, কাজী সাখাওয়াত হোসেন রুবেল গত নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে তার সঙ্গে হেরেছেন। এখন সে আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় ত্রাশের রাজত্ব কায়েম করেছে। সোমবার রাতে ওয়াজ মাহফিল চলাকালে উদ্দেশ্যেমূলকভাবে ওই এলাকায় ঢুকে গ্রামের মানুষের ঘরবাড়ির ওপর হামলা করেছে। কাজী রুবেলের লোকজন ফাঁকা গুলি করেছে।

মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, শ্রীপুর ইউনিয়নে দুটি পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। সোমবার রাতে চেয়ারম্যান হারুন মোল্লা ও আসন্ন নির্বাচনে তার সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী কাজী রুবেলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছেন।

ওসি আরও জানান, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।