হেফাজতে ইসলামের সাবেক নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে আদালতে ধর্ষণের কাহিনি আবারও বর্ণনা করলেন তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আর ঝর্ণা।বুধবার নারায়ণগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন তিনি। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ ঝর্ণাকে মুখের হিজাব খুলতে বলায় আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়ানো মামুনুল হক বলেন, 'হিজাব খোলবা না ঝর্ণা'। তবে তিনি একবার হিজাব খুলে বিচারককে মুখ দেখান।

নারায়ণগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে ঝর্ণা জানান, তার প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর মামুনুল হকের প্ররোচনায় তিনি ঢাকায় চলে আসেন। পরে বিয়ের আশ্বাসে তিনি তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। কিন্তু বিয়ের কথা বললে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এরপর গত ৩ এপ্রিল সকালে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে মামুনুল তাকে কলাবাগান থেকে নিয়ে যান। তারা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় ঘোরাফেরা করেন। দুপুরে স্থানীয় রয়্যাল রিসোর্টের একটি কক্ষে উঠেন তারা। সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন মামুনুল। তারা হোটেল রুমে বসে কথা বলার সময় স্থানীয়রা তাদের আটক করে।

সাক্ষ্যগ্রহণকালে বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর রকিবুজ্জামান রাকিবসহ কয়েকজন আইনজীবী। আসামিপক্ষে ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবেদীন মেসবাহ্‌সহ কয়েকজন। জানা গেছে, আদালতের কাঠগড়ায় মামুনুল হক বারবার ঝর্ণাকে উদ্দেশ করে দিকনির্দেশনামূলক কথা বলার চেষ্টা করেছেন। পরে অবশ্য অনুরোধ করার পর তিনি চুপ থাকেন।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান জানান, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মামুনুল হককে আদালতে হাজির করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাকে ফের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়া হয়েছে।

গত ৩০ এপ্রিল মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় ধর্ষণ মামলা করেন ঝর্ণা। গত ১০ সেপ্টেম্বর মামুনুলকে একমাত্র আসামি করে এ মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেয় পুলিশ। গত ৩ নভেম্বর এ মামলার চার্জ গঠন হয়। বুধবার বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হলো।