সাভারের আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডের ৯ বছর পার হলো। এ উপলক্ষে নিহত ও নিখোঁজদের স্মরণে শোক র‌্যালি, বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও পোশাক শ্রমিকরা। এতদিনেও দোষীদের বিচার না হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

নিহতদের স্মরণে ওই গার্মেন্টের সামনে অস্থায়ী বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে স্বজন ও সহকর্মীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বুধবার সকাল থেকে নিশ্চিন্তপুর এলাকার তাজরীন ফ্যাশনের সামনে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের বিচার, হতাহত ও নিখোঁজ শ্রমিক পরিবারকে ক্ষতিপূরণসহ পুনর্বাসনের দাবি জানান। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অনুষ্ঠানস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

শ্রমিক নেতারা বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ গেট আটকে দিয়ে শ্রমিকদের পুড়িয়ে মেরেছিল। এটা একটা হত্যাকাণ্ড, যা বিভিন্ন তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু সরকার এতদিনেও খুনি গার্মেন্ট মালিকের শাস্তি নিশ্চিত করতে পারেনি। এতে সারাদেশের শ্রমিকদের বুকে আগুন জ্বলছে। শত শ্রমিকের প্রাণ ও স্বপ্ন আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে তাজরীন গার্মেন্টে। 

শ্রমিক নেতারা নিহত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, আহতদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া, নিহত ও আহত পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা, পরিবারের সক্ষম সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাসহ গার্মেন্ট মালিক দেলোয়ারের ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানান। অন্যথায় তারা কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

আহত শ্রমিক নাছিমা আক্তার বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় জীবন বাঁচাতে লাফিয়ে পড়ে আহত হন। বর্তমানে তিনি পঙ্গু হয়ে পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। করোনাকালে তারা মানবেতর জীবনযাপন করেছেন।

শ্রমিক নেতারা বলেন, মালিকপক্ষের অব্যবস্থাপনা, কাঠামোগত ত্রুটি এবং সরকারি ছাড়পত্রে কারখানা চালানোর সুযোগের কারণে তাজরীনের এত লোকের মৃত্যু হয়। সরকারের অবহেলার কারণে এত বড় শ্রমিক হত্যার বিচার হয়নি। গার্মেন্ট মালিকসহ দোষীদের শাস্তি হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ হতো। এতে অন্যান্য কারখানার মালিকরা সতর্ক হতো এবং রানা প্লাজা ও রূপগঞ্জের মতো ঘটনায় নির্মম মৃত্যু দেখতে হতো না।

২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তাজরীন ফ্যাশনে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায় ১১৩ জন শ্রমিক এবং আহত হয় প্রায় পাঁচ শতাধিক শ্রমিক। 

এ মামলায় তাজরীন ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন ও চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার মিতাসহ প্রতিষ্ঠানটির ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।