রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শিক্ষক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কুদরত-ই জাহান।

শিক্ষক সমিতির ১৫টি পদের বিপরীতে শুধুমাত্র সাধারণ সম্পাদক ব্যতীত ১৪টি পদেই জয় পেয়েছে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন হলুদ প্যানেল। হলুদ প্যানেলের অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস ৫০০ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যাপক ছায়েদুর রহমান পান্নু পেয়েছেন ৪৮৭টি ভোট। ৫০৯ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন সাদা গ্রপের অধ্যাপক কুদরত-ই জাহান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হলুদ প্যানেলের অধ্যাপক জাফর সাদিক পেয়েছেন ৪৭৪ ভোট।

শিক্ষক সমিতির অন্যান্য পদে জয়ীরা হলেন, সহ-সভাপতি অধ্যাপক মাইনুল হক, কোষাধ্যক্ষ ড. কামরুজ্জামান, যুগ্ম সম্পাদক এএইচএম কামরুল আহসান। সদস্য পদে জয়ীরা হলেন, ড. আব্দুস সামাদ, ড. আশরাফ-উজ-জামান, ড. সাজ্জাদ বকুল, বনি আদম, আলতাফ হোসেন, মতিকুল ইসলাম, অমিত কুমার দত্ত, রনক জাহান, কামরুল হাসান শোভন, রেজাউল হক আনসারী।

এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ডিন, সিন্ডিকেট, শিক্ষক সমিতিসহ ৬ ক্যাটাগরির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের দল হলুদ প্যানেল। ৪০ পদের নির্বাচনে ৩২ টি পদেই জয় পেয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ। অন্যদিকে মাত্র ৮টি পদে জয় পেয়েছে বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের দল বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষক গ্রুপ (সাদা গ্রুপ)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত ফলে এ তথ্য জানা যায়।

এর আগে সকাল নয়টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সিন্ডিকেটের পাঁচটি পদের সবগুলিতে জয় পেয়েছে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা। ১২টি ডিন পদে নির্বাচনে সমান ৬টি করে জয় পেয়েছে হলুদ প্যানেল ও সাদা গ্রুপ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে ১৫টি পদের মধ্যে সভাপতি, সহ-সভাপতিসহ ১৪ পদেই জয় পেয়েছে হলুদ প্যানেল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনান্স কমিটির নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী প্যানেল থেকে অধ্যাপক আহসান হাবিব শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে জয় পেয়েছেন। তবে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটিতে জয় পেয়েছেন সাদা গ্রুপের ড. সোহেল হাসান। শিক্ষা পরিষদের ছয়টি পদেই জয় পেয়েছে হলুদ প্যানেল।

ডিন নির্বাচন

১২টি অনুষদের ডিন নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ (হলুদ দল) থেকে ৬ জন এবং বিএনপি-জামায়াতপন্থি জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষক গ্রুপ (সাদা প্যানেল) থেকে ৬ জন নির্বাচিত হয়েছেন।

হলুদ দল থেকে নির্বাচিত ডিনরা হলেন, বিজনেস অনুষদে অধ্যাপক ড. শাহ্ আজম শান্তনু, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে অধ্যাপক ইলিয়াছ হোসেন, জীববিজ্ঞান অনুষদে অধ্যাপক মোহাম্মদ শহিদুল আলম, প্রকৌশল অনুষদে অধ্যাপক আবু জাফর মো. তৌহিদুল ইসলাম, ফিশারীজ অনুষদে অধ্যাপক ইসতিয়াক হোসেন বিতান এবং ভেটেরিনারী অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সস অনুষদে অধ্যাপক জালাল উদ্দিন সরদার।

সাদা প্যানেল থেকে নির্বাচিত ডিনরা হলেন, কলা অনুষদে অধ্যাপক ফজলুল হক, বিজ্ঞান অনুষদে  অধ্যাপক শাহেদ জামান, কৃষি অনুষদে অধ্যাপক আব্দুল আলিম, চারুকলা অনুষদে অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, ভূ-বিজ্ঞান অনুষদে খোন্দকার ইমামুল হক, আইন অনুষদে অধ্যাপক আব্দুল হান্নান।

সিন্ডিকেট নির্বাচন

সিন্ডিকেটের পাঁচটি পদের সবগুলোতেই জয় পেয়েছে হলুদ দল। প্রাধ্যক্ষ ক্যাটাগরিতে জয় পেয়েছেন শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রাধ্যক্ষ ড. একরামুল হক, প্রফেসর ক্যাটাগরিতে অধ্যাপক মামুনুর রশীদ তালুকদার (সবুজ), সহযোগী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে শফিকুজ্জামান জোয়ার্দ্দার মুক্ত, সহকারী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে সাদিকুল ইসলাম সাগর এবং প্রভাষক ক্যাটাগরিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জয় পেয়েছেন শামসুন নাহার।

শিক্ষা পরিষদ নির্বাচন

শিক্ষা পরিষদের ছয়টি পদের বিপরীতে ৬টিতেই জয়ী হলুদ দল। জয়ীরা হলেন, ড. মনীরা জান্নাতুল কোবরা স্নিগ্ধা, ড. মিজানুর রহমান, ড. কনক পারভেজ। হলুদ দল থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন, এসএম সানজিদ রহমান, আরিফুর রহমান, শাহাদাৎ হোসেন।