গাজীপুরে সড়কের পাশ থেকে এক নারী ও তার মেয়ের লাশ উদ্ধার হয়েছে। ফেরদৌসী বেগম নামে ওই নারীর শরীর রক্তাক্ত ছিল এবং তার মেয়ে পাঁচ বছরের মেয়ে তাসমিয়া আক্তারের গলা কাটা ছিল। 

মহানগরের দেশীপাড়ার বিমানের টেক এলাকায় রাস্তার পাশে লাশ দুটি দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। 

পরে লাশ উদ্ধার করে তাদের ফিঙ্গার প্রিন্ট থেকে এই পরিচয় শনাক্ত করা হয় বলে বৃহস্পতিবার মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (অপরাধ) জাকির হাসান জানিয়েছেন। 

এর আগে বুধবার রাত ২টার মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, নিহত ফেরদৌসী জেলার কালীগঞ্জের বরাইয়া নরুণ বাজার এলাকার বাছির উদ্দিনের মেয়ে। তিনি একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন। বছর দশেক আগে জয়নাল আবেদীন নামে এক উবার চালকের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। এ সংসারে নিহত তাসমিয়া আক্তারসহ দুই মেয়ে আছে তার। কিন্তু হঠাৎ করেই চার বছর আগে জয়নালের সঙ্গে ফেরদৌসীর সংসার ভেঙ্গে যায়। পরে রবিউল ইসলাম নামের এক যুবককে বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেন ফেরদৌসী। থাকতেন গাজীপুর সদরের হাড়িনাল এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে। তার সঙ্গে আগের ঘরের ওই দুই মেয়েও থাকতো। ভালোই চলছিল ফেরদৌসীর নতুন সংসার। 

বুধবার রাতে কে বা কারা ফেরদৌসী ও তার ছোট মেয়ে তাসমিয়াকে গলা কেটে হত্যার পর রাস্তার পাশে লাশ ফেলে রাখে।

জাকির হাসান বলেন, মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধারের পর ফিঙ্গার প্রিন্টের সূত্র ধরে তাদের বাড়িতে গিয়ে ফেরদৌসীর মায়ের কাছ থেকে এসব তথ্য পাওয়া যায়। নিহতের বড় মেয়ে আসমিয়া আক্তার রবিউলের সঙ্গে থাকে। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ঘাতকদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।