নয় বছর আগে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী এলাকা থেকে প্রিয় মানুষের হাত ধরে গাজীপুরের টঙ্গীর মাজার বস্তিতে এসে ঘর বাধেন শিল্পী বেগম। ভালোবাসার ঘর আলো করে তার কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে দুই সন্তান। অভাবের সংসারে আর্থিক সংকট থাকলেও ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না। নানা স্বপ্ন দিয়ে তৈরি করা সাজানো সংসার এক নিমিষেই চোখের সামনে ভয়াবহ আগুনে ঝলসে যেতে দেখে অনেকটা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন শিল্পী।

গাজীপুরের টঙ্গী হাজী মাজার বস্তির ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর শেষ সম্বলটুকুর খোঁজ করতে দেখা যায় শিল্পীকে। 

ভেজা চোখে তিনি বলেন, নয় বছর ধরে তিল তিল করে সংসারটারে সাজিয়েছি। এখন চোখের নিমিষেই সব শেষ হয়ে গেল। আগুন আমার সব কেড়ে নিয়েছে। এখন কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না।

শনিবার ভোর ৪টার দিকে টঙ্গীর সেনাকল্যাণ ভবনের পাশে বস্তিটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনে পুড়ে যায় বস্তির পাঁচশ'র বে‌শি ঘর। দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের নয়টি ইউনিট। 

টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ইকবাল হাসান বলেন, ভোরে মাজার বস্তিতে আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের নয়টি ইউনিট সেখানে পৌঁছে কাজ শুরু করে। তাদের দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।