খুলনায় তেরখাদায় উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের কোলা গ্রামে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের পিটুনিতে আহত নৌকা প্রতীকের সমর্থক বাবুল শিকদার মারা গেছেন। রোববার সকাল ৬টার দিকে ঢাকা নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় তাকে পিটিয়ে আহত করা হয়।

নিহত বাবুল শিকদার পেশায় কৃষক। তিনি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী ছিলেন।

তেরখাদা থানার ওসি জহুরুল আলম জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে বাবুল শিকদার একই গ্রামের দীনেশের বাড়িতে নৌকা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে যান। এ সময় প্রতিদ্বন্দ্বী অপর এক প্রার্থীর সমর্থক বাবর আলীর নেতৃত্বে ৪/৫ জন তার মাথায় ও মুখে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। রাতেই তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়।  খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়।

দুপুর দুইটায় নিহতের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, কিছুক্ষণ আগে মরদেহ বাড়ির উঠানে নিয়ে রাখা হয়েছে। মরদেহ ঘিরে নিহতের স্ত্রী সুফিয়া বেগম, মা ঝিকরিয়া বেগম ও বোন পান্না বেগমসহ স্বজনরা আহাজারি করছেন।  

নিহতের স্ত্রী সুফিয়া বেগম বলেন, আলাউদ্দিন (৯), আফিয়া (৬) ও বর্ষা (৪) নামে তার তিনটি সন্তান রয়েছে। এখন তাদের কী হবে।

তেরখাদা থানার ওসি জহুরুল আলম জানান, হত্যার ঘটনার পর হামলাকারীরা আত্মগোপন করেছে। তাদেরকে আটক করার জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। সন্ধ্যা ৬ টায় জানাজা শেষে মরদেহ দাফনের কথা রয়েছে।

অন্যদিকে খুলনা তেরখাদা উপজেলার ৬টি ও রূপসা উপজেলার একটি ইউনিয়নের ৬৮টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল অনেক। তবে দুপুর একটা থেকে তিনটা পর্যন্ত ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও তিনটার পর আবার ভোটারদের উপস্থিতি বেড়ে যায়। নির্বাচনে বড় ধরনের অনিয়মের খবর পাওয়া যায়নি।

দেশীয় অস্ত্রসহ প্রার্থীর ছেলে আটক

এদিকে খুলনায় ভোট কেন্দ্র থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ শামীম ফকির (২৫) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। রোববার সকাল ৯টার দিকে রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের পুটিমারি এলাকার ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক শামীম ফকির ৫ নং ঘাটভোগ ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য প্রার্থী আসাদ ফকিরের ছেলে।
রূপসার থানার ওসি সরদার মোশাররফ হোসেন জানান, ওই কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ হয়েছে।

বিকাল ৪টায় খুলনার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গড়ে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।