ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দেশে এই প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের নজরুল ইসলাম ঋতু। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি জানালেন, মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করবেন।  

ফলাফল ঘোষণার পর সমকালকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ঋতু বলেন, সমাজের একজন অবহেলিত মানুষ হয়েও এলাকার মানুষ আমাকে ভালবেসে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন। এজন্য আমি এলাকাবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ। অবহেলিত এলাকার উন্নয়নে জীবনবাজি রেখেই কাজ করব। মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করব। 

সমকালকে তিনি বলেন, এই গ্রামেই আমার জন্ম। এখানে আমার পরিবার বেড়ে উঠেছে। তাদের পাশে থেকে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে চাই।  

উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের সন্তান ঋতু তার নিজের জীবনের গল্প তুলে ধরে বলেন, জন্মের পর তৃতীয় লিঙ্গের একজন হওয়ার কারণে ৫ বছর বয়সে ঢাকাতে চলে যাই। সামান্য লেখাপড়া করলেও সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতায় প্রাথমিকের গন্ডি পেরোনো হয়নি। ছোটবেলা থেকেই ঢাকার ডেমরা থানাতে আমার দলের গুরু মার কাছেই বেড়ে ওঠা। এখন আমার বয়স ৪৩ বছর। গুরু মার পরের দ্বায়িত্বটা এখন আমার কাঁধে। তবে ঢাকাতে থাকলেও পরিবারের টানে প্রায়ই বাড়িতে আসি।

ঋতুর আরও তিন ভাই ও তিন বোন রয়েছেন। তিন ভাই ঢাকাতে থাকেন ও বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে। 

রোববার কালীগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর ত্রিলোচনপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র থেকে চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৫৭ ভোট। তার নিকটতম প্রার্থী ওই ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান নৌকা প্রতীকের নজরুল ইসলাম ছানা পেয়েছেন ৪ হাজার ৫২৯ ভোট। ভোটের ব্যবধান হিসাবে ঋতু তার প্রতিপক্ষ নৌকার প্রার্থীর চেয়ে ৫ হাজার ২৮ ভোট বেশি পেয়েছেন। এছাড়াও তিনি উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। 

নির্বাচন প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম ঋতু বলেন, আমার পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের সমর্থক। বাবা মারা যাওয়ার সময় বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু দেশের জন্য অনেক কিছু করেছেন। যতদিন বাঁচবে তার আদর্শেই কাজ করবে। এবার আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেলেও এলাকার মানুষ আমাকে ভালোবেসে ভোটে দাঁড় করিয়েছিল। তাদের ভালবাসার ভোটেই আজ আমি জয়ী হয়েছি। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সম্প্রদায়ের ভোটের অধিকার দিয়েছেন। তার অবদানের কথা আমরা কোনদিন ভুলব না।

ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি সমকালকে বলেন, সবথেকে বেশি কষ্ট পাই যখন শুনি আমার এলাকার কেউ অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না অথবা মেয়ে বিয়ে দিতে পারছে না। এখন বিজয়ী হতে পেরে এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারব।