বগুড়ায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মোহন মিয়া (১৮) নামে উচ্চ মাধ্যমিকের এক পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। তার সঙ্গে থাকা বাপ্পী হাসান ও লিখন আহম্মেদ নামে অপর দুই পরীক্ষার্থীকেও মারপিট করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের খান্দার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মোহন বগুড়া সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শহরের ফুলতলা এলাকার শুকুর আলীর ছেলে। পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। আহত বাপ্পী হাসান বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে।

বাপ্পী হাসান বলেন, 'শিবলী নামের এক ব্যবসায়ীকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে সোমবার ১১টার দিকে শহরের খান্দার দিকে যায় তারা। এসময় তাদের সঙ্গে আরও দুটি মোটর সাইকেল ছিল। শিবলী ভাইকে খান্দার এলাকায় নামিয়ে দেওয়ার পর ফুলতলার দিকে ফেরার সময় একদল ব্যক্তি আমাদের ধাওয়া করে। তখন আমরা মোটর সাইকেল ঘুরিয়ে ধাওয়াকারীদের খোঁজ করতে গেলে খান্দার এলাকার শেহা প্যালেসের সামনে একদল লোক আমাদের পথরোধ করে লাঠি দিয়ে পেটায়। এরপর মোটর সাইকেল নিয়ে পড়ে গেলে তারা মোহন মিয়াকে ছুরিকাঘাত করে।’

বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, আহত মোহন মিয়াকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ওই হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে জড়িতদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। 

মোহন মিয়ার প্রতিবেশী ফারুক হোসেন জানান, ছোট্ট ছেলে মোহনকে কেন কারা খুন করবে সেটা তারা বুঝে উঠতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘মোহনের বাবা শুকুর আলী শহরের ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ডে একটি পরিবহন সংস্থার কাউন্টারে কাজ করেন। শুকুর আলীর ৫ ছেলে এবং ২ মেয়ের মধ্যে মোহন সবার ছোট।’

বগুড়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ নূর নবী জানান, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রবেশপত্র তুলতে মোহন মিয়া ২৯ নভেম্বর কলেজে এসেছিল। তিনি বলেন, 'আজ সকালে কলেজে এসে শুনছি যে ছেলেটা খুন হয়েছে। এটা শুনে খুবই খারাপ লাগছে।’