বরগুনায় এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে সাইফুল ইসলাম (৩০) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে বরগুনার নারী ও শিশু আদালতের বিচারক হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের সাহেবের হাওলা রফেজিয়া দাখিল মাদ্রাসায় লেখাপড়া করত। ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি মাদ্রাসায় ক্লাশ চলাকালীন সময় শিক্ষক সাইফুল ইসলাম গাইড বই দেওয়ার কথা বলে মাদ্রাসার পেছনে তার নিজ বসত ঘরের দোতলায় ওই ছাত্রীকে ডেকে নেয়। এরপর ওই তাকে ধর্ষণ করে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় সাইফুল। পরে সহপাঠী ও স্বজনরা এসে তাকে উদ্ধার করে বরগুনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। একই দিন ভুক্তভোগী মাদ্রাসা ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে বরগুনা থানায় এবং দু'দিন পর বরগুনা নারী শিশু আদালতে শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, তার বাবা মাওলানা মো. ইব্রাহীম খলিল ও বড় ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদা বেগমকে আসামি করে মামলা করেন।

ওই মামলায় মঙ্গলবার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ১নং আসামি সাইফুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থাদণ্ড দেয় আদালত। পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় অপর দুই আসামি মাওলানা মো. ইব্রাহীম খলিল ও রাশিদা বেগমকে খালাস দেন আদালত।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আশ্রাফুল আলম বলেন, পুলিশ প্রতিবেদনে ও দোষী প্রমাণিত হওয়ায় সাইফুলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। এ রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে। এরপর কোনো অপরাধী অপরাধ করার আগে কয়েকবার চিন্তা করবে।