ঢাকার রামপুরায় বাস চাপায় নিহত স্কুলছাত্র মাইনুদ্দিন ইসলাম দুর্জয়কে (১৭) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইলে দাফন করা হয়েছে। মঙ্গলবার এশার নামাজের পর নানা বাড়ি সরাইল উপজেলা সদরের হালুয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের পর ঢাকা থেকে মরদেহ নিয়ে আসা অ্যাম্বুলেন্সটি সরাইলের হালুয়াপাড়া গ্রামে পৌঁছায়। এসময় এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মরদেহ দেখে আহাজারি শুরু করেন স্বজনরা। তাকে  শেষবারের মতো দেখতে সেখানে জড়ো হন আত্মীয়-স্বজনরা।

দুর্জয় সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের পানিশ্বর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে। তবে প্রায় ২০ বছর আগে দুর্জয়ের বাবা বাড়ি-ঘর বিক্রি করে পরিবার নিয়ে ঢাকায় চলে যান।

খালাতো ভাই খোরশেদ আলম বলেন, দুর্জয়ের বাবা  প্রায় ২০ বছর আগে বসতবাড়ি বিক্রি করে পরিবার নিয়ে ঢাকায় চলে যান। সেখানে তিনি একটি চায়ের দোকান চালাতেন। তিন ভাই-বোনের মধ্যে দুর্জয় ছিলো সবার ছোট। তার বড় ভাই মনির হোসেন ঢাকায় প্রাইভেটকার চালায়। বড় বোন ঝুমা আক্তারের বিয়ে হয়ে গেছে। তার বাবা মাঝে মধ্যে ছেলে মেয়েদের নিয়ে শ্বশুরবাড়ি সরাইলের হালুয়াপাড়ায় বেড়াতে আসতেন। দুর্জয় ঢাকার রামপুরার একরামুননেছা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল।

বড় খালা আফিয়া বেগম জানান, ওর এসএসসি পরীক্ষা শেষ। এছাড়া ওর খালাতো বোন আমোদা বেগম ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সরাইল সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের সদস্য হিসেবে বিজয়ী হন। বোনের বিজয়ে আনন্দ করতে মঙ্গলবারই দুর্জয়ের সরাইল আসার কথা ছিলো। কিন্তু সে এসেছে মরদেহ হয়ে। তার মৃত্যুতে সব মাটি হয়ে গেছে।

আফিয়া বেগম বলেন, তার বাবা অনেক কষ্টের মধ্যেও তার পড়ালেখা বন্ধ করেনি। সে ছাত্র হিসেবে অনেক মেধাবী ছিল। পড়ালেখার পাশাপাশি বাবাকেও কাজে সাহায্য করতো।

দুর্জয়ের ভাবী শারমিন আক্তার বলেন, আমার ছোট বাচ্চাকে নিয়ে সারাক্ষণ মেতে থাকতো দুর্জয়। এখন আর কেউ তার সঙ্গে খেলবে না। আমাকে আর কেউ ডাকাডাকি করবে না। এসব ভাবতেই আমার বুক ফেটে যাচ্ছে।

ভগ্নিপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, তার মৃত্যু নিয়ে আমরা ভিন্ন ভিন্ন কথা শুনছি। কেউ কেউ বলছেন রামপুরা এলাকায় দুই বাসের মাঝখানে চাপা খেয়ে দুর্জয় মারা গেছে। আবার কেউ কেউ বলছে দুর্জয়কে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।

দুর্জয়ের মা রাশেদা বেগম বলেন, সোমবার ছিলো দুর্জয়ের জন্মদিন। সে পড়াশুনা করে একদিন বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখতো। আমাকে বলতো এসএসসির রেজাল্ট ভালো হলে ঢাকার নামকরা কলেজে ভর্তির ব্যবস্থা করতে। 

তিনি বলেন, সোমবার রাতে বন্ধুর ডাকে বাসা থেকে বেরিয়ে যায় দুর্জয়। পরে আমরা টিভির খবরের মাধ্যমে জানতে পারি বাসের চাপায় আমার দুর্জয় মারা গেছে।

তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিচার দাবি করে বলেন, শুনেছি আমার ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। 

প্রসঙ্গত, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা এলাকায় গ্রিন অনাবিল পরিবহনের বাসের চাপায় নিহত হয় স্কুলছাত্র দুর্জয়। পরে মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে তার মরদেহ নিয়ে সরাইলের উদ্দেশে রওনা হন স্বজনরা।