মশক নিধন ওষুধ কেনা ও নিধন কার্যক্রম নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাধারণ সভায় কাউন্সিলরদের মধ্যে হট্টগোল হয়েছে। মঙ্গলবার নগরের আন্দরকিল্লা পুরাতন নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পরে সভায় দুটি মশার ওষুধ কিনে পরীক্ষামূলক ব্যবহার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নগরের উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্পগুলো থমকে থাকায় সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিককে ভর্ৎসনা করা হয় সভায়। তাতে সব কাউন্সিলর ঐক্যবদ্ধভাবে সম্মতি জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

সাধারণ সভা সূত্র জানায়, সভায় প্রতি লিটার ৫৯০ টাকা দরে মশা মারার ওষুধ কেনার প্রস্তাব করেন সিটি করপোরেশনের উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম চৌধুরী। এর বিরোধিতা করেন প্যানেল মেয়র আব্দুস সবুর লিটন। তিনি জানান, তার গুদামে মাত্র ১৭০ টাকা দামে কেনা মশা মারার কীটনাশক রয়েছে। যেটি ব্যবহার করলে মশার পাশাপাশি পোকামাকড়ও মারা যায়। তার কাছ থেকে বিনামূল্যে এক ড্রাম নিয়ে সিটি করপোরেশনকে সেটি ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তিনি। যদি কার্যকারিতা পাওয়া যায় সরকারি নিয়ম মেনে দোকান থেকে সেটি কেনার প্রস্তাব করেন।

প্যানেল মেয়রের বক্তব্যের বিরোধিতা করেন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ও ৭ নম্বর ষোলশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোবারক আলী। তিনি বলেন, চাইলে যে কোনো ওষুধ সিটি করপোরেশন কিনতে পারে না। মশার ওষুধ কিনতে গেলে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ (আইইডিসিআর) বিভিন্ন সংস্থার ছাড়পত্র লাগে। এরপর দু'জনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা চলতে থাকে। পরে মেয়র ও কাউন্সিলরদের হস্তক্ষেপে থামে। এ সময় নগরের পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কাজে গাফিলতি হলে সংশ্নিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মেয়র।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কাউন্সিলর সমকালকে বলেন, 'মূলত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ও উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তার দ্বন্দ্বে মশা নিধনে ওষুধ কেনা হচ্ছে না। ঢাকার সিটি করপোরেশনগুলোতে ব্যবহৃত ওষুধ 'ম্যালথিয়ন ৫৭ ইসি' কিনতে চান সভাপতি। অন্যদিকে উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা চাচ্ছেন সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর ব্যবহার করা ওষুধ 'টেমিফস' ব্যবহার করতে। উভয়ের ঠেলাঠেলিতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। সেটির প্রতিফলন হয়েছে আজকের সভায়।'

তবে প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, সভায় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।