বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হত্যা করার জন্য সরকার মুক্তি দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‌‘সরকার খালেদা জিয়াকে হত্যার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মুক্ত করে দিচ্ছে না। দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তির জন্য প্রতিটি পাড়ায় মহল্লায় আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি চলবে। এতে সবাইকে অংশগ্রহণ করতে হবে।’

মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট নগরীর ঐতিহ্যবাহী রেজিস্ট্রারি মাঠে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে বিভাগীয় বিএনপির ব্যানারে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকির সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান, সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন-নবী খান সোহেল।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেছেন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেশে সম্ভব না। আইন অনুযায়ী সরকার চাইলেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে বিদেশে পাঠানোর সুযোগ করে দিতে পারে।’

যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন-নবী খান সোহেল বলেন, ‘এই সরকারের কাছে আবদার করে কোন লাভ হবে না। আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিহিংসার কারণে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের সকলেই খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবি জানান। এই দাবি না মানলে ঢাকা অচল করে দেওয়ার মত কর্মসূচি দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি দাবি জানান সিলেটের নেতারা। সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা বিভাগে বিভাগে সমাবেশ না ডেকে ঢাকায় মহাসমাবেশ ডাকেন। আমরা ঢাকা অচল করে দেব। নয় মাস লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছি। মাসখানেক লড়াই করতে পারলেই এই সরকারের পতন ঘটাতে পারব।

জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‌‘আইনি বাধা নয়, খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসায় সবচেয়ে বড় বাধা শেখ হাসিনা। তাকে সরাতে হবে।’ জাতীয় নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য, সাবেক এমপি এম নাসের রহমান বলেন, ‘লিভার সিরোসিস সাধারণত পুরুষ মানুষের হয়। বেশি মদ খেলে লিভার সিরোসিস হয়।’ তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘খালেদা জিয়া তো দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন। তবে কি সরকার তার খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দিয়েছে? বিদেশে চিকিৎসায় গেলে এইসব ধরা পড়ে যেতে পারে, তাই সরকার তাকে বিদেশ যেতে দিচ্ছে না।’

মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে শুরু হওয়া সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিএনপির সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এনামুল হক, তাহসীনা রুশদীর লুনা, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন মিলনসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। দুপুর ১২টা থেকে সমাবেশে অংশ নিতে মিছিল সহকারে যোগ দেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।