ঢাকা শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪

মেয়র সম্মানী ঠিকই নিয়েছেন সাদিক

সম্পদ বেড়েছে হাসানাত ও শামীমের

মেয়র সম্মানী ঠিকই নিয়েছেন সাদিক

সাদিক সাদিক আবদুল্লাহ

 সুমন চৌধুরী, বরিশাল

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০০:৫৬

বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) ২০১৮ সালের নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল তিনি মেয়র সম্মানী নেবেন না। এরপর নির্বাচিত হওয়ার পর গত পাঁচ বছর তিনি বলে আসছিলেন, মেয়র সম্মানী না নিয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে চলেছেন। তবে সদ্য সাবেক মেয়র সাদিক দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ (মহানগর-সদর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পর তাঁর গোমর ফাঁস হয়ে গেছে। তিনি হলফনামায় আয়ের খাতে উল্লেখ করেছেন, মেয়র সম্মানী ভাতা বাবদ বার্ষিকভাবে পেয়েছেন ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ বিসিসি থেকে প্রতি মাসে ১৭ হাজার টাকা সম্মানী নিয়েছেন তিনি। 
জানা গেছে, হলফনামায় পাঁচ বছরের ব্যবধানে ব্যবসার ধরন পরিবর্তন দেখানো হলেও আগের চেয়ে আয় কম দেখিয়েছেন সাদিক। মেয়র প্রার্থী হওয়ার সময় তিনি ব্যবসায়ী হিসেবে কান্তা করপোরেশন প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক পরিচয় দেন। তখন বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছিল ৮ লাখ ১৫ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় নিজেকে তিনি পরিচয় দিয়েছেন মৎস্য চাষ ও রাখি মালের ব্যবসায়ী। এখন বাড়ি ভাড়া ও ব্যবসা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় সাড়ে ৭ লাখ টাকা। পাঁচ বছর আগে রিকন্ডিশন্ড একটি মাইক্রোবাসের মালিক সাদিকের এখন একটিও গাড়ি নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। স্ত্রীর কাছে থাকা স্বর্ণের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ১০ ভরি; যার মূল্য সাড়ে ৩ লাখ টাকা। 

এদিকে সাদিকের প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার প্রার্থী পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমেরও গত পাঁচ বছরে সম্পদ কয়েক গুণ বেড়েছে। তিনি বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৫৩ লাখ ৩০ হাজার ৭৫৬ টাকা। অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার ভাতা এবং এমপির সম্মানী হিসেবে ওই টাকা তিনি আয় করেছেন। ব্যাংক মুনাফা ও ফ্ল্যাট বিক্রি করে তিনি আয় করেছেন ১ কোটি ১৪ লাখ ২৯ হাজার ৯০২ টাকা। নগদ রয়েছে ৫৮ লাখ ১১ হাজার ৬০৩ টাকা এবং ব্যাংকে জমা ১ কোটি ৯ লাখ টাকা। বরিশাল নগরের আলেকান্দায় দুটি এবং কক্সবাজার ও ঢাকার বারিধারায় দুটি দালানের মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ১৯ হাজার টাকা। জাহিদ ফারুকের স্ত্রী নগদ ৯২ লাখ ১৯ হাজার টাকা, ব্যাংকে ৫৬ লাখ টাকা এবং ৭০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রের মালিক। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জাহিদ ফারুক মোট বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৫১ হাজার ৮০২ টাকা দেখিয়েছিলেন। নগদ তাঁর হাতে ছিল ১০ লাখ ৯৪ হাজার ৯২৫ টাকা এবং স্ত্রীর ৩০ ভরি স্বর্ণ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। 

সম্পদ বৃদ্ধিতে পিছিয়ে নেই বরিশাল-১ আসনে নৌকার প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি। হলফনামায় তাঁর হাতে নগদ টাকা দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ১৯ হাজার ৫০৯ টাকা। ২০১৮ সালের নির্বাচনে এর পরিমাণ ছিল ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৭৪ টাকা। 

আরও পড়ুন

×