ঢাকা শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪

স্বামী এমপি হলেই কপাল খোলে স্ত্রীর

স্বামী এমপি হলেই কপাল খোলে স্ত্রীর

.

 সারোয়ার সুমন ও শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম 

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০১:১৪

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের স্ত্রী রুকমিলা জামান ইউসিবিএলের চেয়ারম্যান ও আরামিট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। কিন্তু নির্বাচন কমিশনে ভূমিমন্ত্রী যে হলফনামা জমা দিয়েছেন সেখানে স্ত্রীর চাকরি, পদবি কিংবা আয়ের কোনো খাত উল্লেখ করেননি। গতবারের মতো এবারও লিখেছেন ‘প্রযোজ্য নয়’। তবে হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তাঁর স্ত্রীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রমশ বাড়ছে। 
পাঁচ বছর আগে ভূমিমন্ত্রীর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তি ছিল ৫ কোটি ৭২ লাখ টাকার। এখন তা বেড়ে হয়েছে সাড়ে ৮ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে ভূমিমন্ত্রীর স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তি ছিল ২ কোটি ২৩ লাখ টাকার, যা বেড়ে এখন হয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা।

শুধু রুকমিলা জামান নন; স্বামী মন্ত্রী কিংবা এমপি হওয়ায় এভাবে ‘কপাল খুলেছে’ চট্টগ্রামের বেশ কয়েক নারীর। তারা অনেকেই পেশায় গৃহিণী। 
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য বলছে, চট্টগ্রামের ১৬ এমপির বেশির ভাগের স্ত্রীর সম্পদ বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। কারও কারও সম্পদ তাঁর স্বামীর চেয়ে বেশি।

হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর স্ত্রী কামরুন নাহার পেশায় ব্যবসায়ী। দুটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক তিনি। ৫ বছর আগেও সামশুল হকের স্ত্রীর আয় ছিল বছরে ১২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, যা  বেড়ে এখন হয়েছে ২৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা। কামরুন নাহারের সম্পদ বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। ২০১৮ সালে তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ছিল ১ কোটি ১৭ লাখ টাকার, যা বেড়ে এখন হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা। সামশুল হক চট্টগ্রাম-১২ আসনে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী।

এই তালিকায় আছেন এমপি নোমান আল মাহমুদের স্ত্রী শামীমা আক্তার। এমপি হওয়ার পর নোমানের সম্পদ ও আয় কমেছে; কিন্তু তাঁর স্ত্রীর সম্পদ ও নগদ অর্থ বেড়েছে। ৭ মাস আগে উপনির্বাচনে এমপি হন নোমান আল মাহমুদ। তখন তাঁর স্ত্রীর নামে ছিল ২০ লাখ ১৬ হাজার ৪১৪ টাকা, যা বেড়ে এখন হয়েছে ২৯ লাখ ৭ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৭ মাস আগে শামীমা আক্তারের তিন লাখ ৪০ হাজার টাকা থাকলেও এখন তা নেই। ৪০ ভরি স্বর্ণের মালিক তিনি। ব্যবসায় আছে ২০ লাখ টাকার মূলধন। নোমানের নিজের কোনো কৃষিজমি বা সম্পদ নেই। কিন্তু স্ত্রীর নামে তিন লাখ ২০ হাজার টাকা দামের ৩১৫ বর্গফুট জায়গা রয়েছে। নোমান আল মাহমুদ চট্টগ্রাম-৮ আসনে নৌকার প্রার্থী। 

 মন্ত্রী হাছান মাহমুদের চেয়ে তাঁর স্ত্রীর সম্পদ বেশি 
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। তবে বিভিন্ন ব্যাংকে তাঁর ঋণ দুই কোটি ২৮ লাখ টাকা। তথ্যমন্ত্রীর স্ত্রী ব্যবসায়ী নুরান ফাতেমার অবশ্য ঋণ নেই। স্বামীর চেয়ে কম আয় করলেও স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে তাঁর। 

পাঁচ বছর আগে হাছান মাহমুদের স্ত্রীর আয় ছিল বছরে ২৩ লাখ টাকা, যা কমে এখন হয়েছে ১০ লাখ টাকা। তারপরও স্বামীর চেয়ে সম্পদ বেশি নুরান ফাতেমার। তথ্যমন্ত্রী এবার হলফনামায় বছরে তাঁর আয় উল্লেখ করেন ৪ লাখ টাকা। মন্ত্রী হিসেবে প্রাপ্ত সম্মানীর তথ্য সেখানে উল্লেখ করেননি তিনি। ড. হাছান মাহমুদ এবারও চট্টগ্রাম-৭ আসনে নৌকার প্রার্থী।

নগদ টাকা ও সম্পদ বেড়েছে নওফেলের স্ত্রীর
পাঁচ বছরের ব্যবধানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের স্ত্রী এমার ক্লেয়ার বার্টনের নগদ টাকা বেড়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে এমার ক্লেয়ারের নগদ টাকা ছিল ১৫ লাখ, যা বেড়ে এখন হয়েছে ২৫ লাখ ৮৬ হাজার ৫০৯ টাকা। একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় স্ত্রীর স্থাবর সম্পদের বিবরণে উপমন্ত্রী কিছুই উল্লেখ না করলেও এই খাতে এবার দেখিয়েছেন ৩৫ লাখ টাকার সম্পদ। গতবার উপমন্ত্রীর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তি ছিল ৫৯ লাখ টাকা। এবার সেটি বেড়ে হয়েছে প্রায় ৬৭ লাখ টাকার। এ ছাড়া উপমন্ত্রী নওফেলের স্ত্রীর নামে রয়েছে ৮ হাজার ডলার। মহিবুল হাসান চৌধুরী চট্টগ্রাম-৯ আসনে এবার নৌকার প্রার্থী।

নদভীর স্ত্রীর আয় বেড়েছে ৪৪ গুণ
আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী পাঁচ বছর আগে স্ত্রী রিজিয়া রেজা চৌধুরীর বার্ষিক আয় দেখান ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এবার সেই খাতে তিনি দেখিয়েছেন ৪৪ লাখ ২২ হাজার ৪৪৬ টাকা। নদভীর স্ত্রীর নামে এবার অস্থাবর সম্পদ দেখানো হয়েছে ৬৬ লাখ টাকার, যা ২০১৮ সালে ছিল প্রায় ১৯ লাখ টাকা। তবে রিজিয়া রেজার কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। নদভী চট্টগ্রাম-১৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী।


মোস্তাফিজের স্ত্রীও কোটিপতি
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী শাহীন আক্তার চৌধুরী। একাদশ সংসদ নির্বাচনে হলফনামায় স্ত্রীর আয় কিছুই উল্লেখ করেননি এমপি মোস্তাফিজ। তবে এবার তিনি স্ত্রীর আয় উল্লেখ করেছেন ৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে এবার তিনি অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন ৮০ হাজার টাকার, যা গতবার ছিল ১৯ লাখ টাকার বেশি।
মোস্তাফিজ এবার স্ত্রীর স্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন ১ কোটি ৬ লাখ টাকার, যা গতবার ছিল একটি ‘৫তলা দালান’।
 
এমপি লতিফের স্ত্রীর ১০ কোটি টাকার সম্পদ
ব্যবসায়ী স্ত্রী হারুনুর বাহারের বার্ষিক আয় এবার কিছুই দেখাননি চট্টগ্রাম-১১ আসনের এমপি এম এ লতিফ। অথচ গতবারের নির্বাচনে এই খাতে তিনি ১ কোটি ১১ লাখ টাকা দেখান। এই সময় তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ ছিল ২ কোটি ৬০ লাখ টাকার বেশি। এবার সেটি কমে হয়েছে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকার। গতবার প্রায় ৬ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ দেখানো হলেও এবার দেখানো হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকার।
 
আয়-সম্পদ দুটিই বেড়েছে মাহফুজুর রহমান মিতার স্ত্রীর
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের এমপি মাহফুজুর রহমান মিতার স্ত্রী মাহমুদা মাহফুজের পাঁচ বছরে আয়-সম্পদ দুটিই বেড়েছে। এবার তাঁর স্থাবর সম্পদ সাড়ে ৩ কোটি টাকার বেশি, যা একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় ছিল ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকার। পাঁচ বছর আগে মাহমুদার অস্থাবর সম্পদ ২ কোটি ৩২ লাখ টাকার থাকলেও এখন সেটি বেড়ে হয়েছে সাড়ে ৪ কোটি টাকার বেশি মূল্যের। 


 

আরও পড়ুন

×