কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) প্যানেল মেয়র ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ সাহাকে গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত দুইটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে জেলা ডিবি পুলিশ। এ সময় ওই হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহ আলমের ঘনিষ্ঠ বন্ধু শাখাওয়াত হোসেন ওরফে জুয়েল (৪৮) নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের একটি টিম কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার গান্দাচি গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার জুয়েল ওই গ্রামের মো. দোলোয়ার হোসেন মজুমদারের ছেলে।

বুধবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেসব্রিফিংয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ)  সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

প্রেসব্রিফিংয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ২টি গত ২২ নভেম্বর কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল হত্যাকাণ্ডে জড়িত এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি শাহ আলমের (২৯) ব্যবহৃত অস্ত্র। শাহ আলম ২৩ নভেম্বর রাতে জুয়েলের নাঙ্গলকোটের গান্দাচি গ্রামের বাড়িতে যান। ওই রাতেই শাহ আলম কাউন্সিলর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি জুয়েলকে নিরাপদে রাখতে বলেন। জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েল পুলিশকে আরও জানিয়েছে, শাহ আলম ও জুয়েল একসময় কুমিল্লা কারাগারে বন্দী ছিলেন। ওই সময়ে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব হয় এবং একপর্যায়ে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। পরে ২৩ নভেম্বর রাতে অস্ত্র দুটি জুয়েলের হেফাজতে রেখে পরের দিন অর্থাৎ ২৪ নভেম্বর সকালে শাহ আলম তাদের বাড়ি থেকে অজ্ঞাতনামা স্থানে চলে যায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তানভীর আহমেদ আরও জানান, জুয়েলের কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি বিদেশি রিভলবার, ২ দুইটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৩ রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণের জন্য শাখাওয়াত হোসেন জুয়েল ও পলাতক আসামি শাহ আলমের বিরুদ্ধে নাঙ্গলকোট থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামি শাহ আলমকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রেসব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সোহান সরকার, জেলা ডিবির ওসি সত্যজিৎ বড়ুয়া, কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আনওয়ারুল আজিম, অভিযানে অংশ নেওয়া জেলা ডিবি পুলিশের এসআই পরিমল চন্দ্র দাশ।