নির্বাচনী বিরোধকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় শাহীন বেপারি (৩২) নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার কাউলীবেড়া ইউনিয়নের কাউলীবেড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সুমন মাতুব্বর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ করেছেন আহত শাহীন। তিনি একই ইউনিয়নের পুটিয়া গ্রামের কামাল বেপারির ছেলে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সরোয়ার মিয়া জনান, দুপুরে নৌকার বিজয়ী প্রার্থীর নির্বাচন পরবর্তী একটি গণসংযোগ শেষে তারা কয়েকজন ভ্যান থেকে কাউলীবেড়া স্ট্যান্ডে নামেন। হঠাৎ দুটি মোটরসাইকেলে কয়েকজন যুবক ওই স্ট্যান্ডে এসে দাঁড়ায়। পরে শাহীন ও তার সঙ্গে থাকা আরও এক যুবককে তারা ঘিরে ধরে এবং এলোপাথাড়ি মারপিট শুরু করে। একপর্যায়ে শাহীনকে রাস্তায় ফেলে একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায় তারা। 

স্থানীয়রা জানান, স্থানীয়রা আহত দুই যুবককে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। 

শাহীনের ভাই বাদল বেপারি অভিযোগ করেন, তার ছোট ভাই গত ২৮ নভেম্বর কাউলীবেড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। নির্বাচনের সময়ই নৌকা প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতিসহ হুমকি দিয়ে আসছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ বিরোধী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা। তার জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারসহ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাউলীবেড়া ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান রেজাউল হাসানাত দুদু মিয়া সমকালকে জানান, তিনি দুপুরে নির্বাচন পরবর্তী গণসংযোগ শেষে ইউনিয়ন পরিষদের দিকে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে সুমন ও ফয়সাল একটি মোটরসাইকেলে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা তাদের আটক করে এবং গণপিটুনি দেয়। এসময় সুমনের কাছে থাকা একটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেন তারা। 

হামলাকারীদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনাটি গ্রাম্য দলাদলিতে ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সহিংসতা হওয়ার আশঙ্কায় তিনি এলাকাবাসীদের কাছ থেকে হামলাকারী সুমন ও ফয়সালকে ছাড়িয়ে দেন। 

ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক মো. সুমন খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে এলাকাবাসী ও চেয়ারম্যান দুদু মিয়া উপস্থিত থেকে একটি ধারালো অস্ত্র পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। কিন্তু সেখানে হামলাকারী কেউ ছিল না। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।