বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাস অ্যাসোসিয়েশন (বাফা) এর জেষ্ঠ্য সহ-সভাপতি অমিয় শংকর বর্মণের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দরে গেইট পাস জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংগঠনের প্যাডে এক ব্যক্তিকে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে বন্দর থেকে গেইট পাসের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। তবে বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ওই ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় তার গেইট পাস বাতিল করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ বাফার কাছে ব্যাখ্যা চাইলে জালিয়াতির ঘটনা বেরিয়ে আসে।

বাফার জেষ্ঠ্য সহসভাপতি অমিয় শংকর বর্মণ সহ-সভাপতি থাকাকালে মোহাম্মদ ইব্রাহিম আমানউল্লাহ নামে এক ব্যক্তিকে বাফার সুপারভাইজার হিসেবে নিয়োগ দেন। ইব্রাহিম আমান উল্লাহ তার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী। গত বছরের ২৮ জুন নিয়োগপত্রে বাফার প্যাডে নিজে সই করেন। এরপর বাফার জেষ্ঠ্য নির্বাহী শাখাওয়াত হোসেনকে এই নিয়োগপত্র দিয়ে বন্দর থেকে গেইট পাস নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেন। গেইট পাস পাওয়ার পর ইব্রাহিম আমান উল্লাহ বন্দরে সংগঠনের বাইরে বিভিন্ন কাজে যুক্ত হন। প্রায় এক বছর ধরে এভাবে বন্দরের অভ্যন্তরে বাফার বাইরে বিভিন্ন কাজকর্মে যুক্ত থাকার পর বন্দরের নিরাপত্তা কর্মীদের সন্দেহ হয় তাতে। পরে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে গত ৯ আগস্ট তার গেইট পাস বাতিল করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি বাফার সভাপতি কবির আহমেদকে চিঠি দিয়ে এই ঘটনার ব্যাখ্যা চান বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক। বাফা তদন্ত করে এই ঘটনায় জালিয়াতির প্রমাণ পায়। 

এ বিষয়ে বাফা থেকে অমিয় শংকর বর্মণের কাছে ব্যাখ্যা চাইলেও তিনি এড়িয়ে যান। গত বুধবার সংগঠনের সভাপতি কবির আহমেদ বন্দরের নিরাপত্তা পরিচালককে এ ব্যাপারে চিঠি দেন। অমিয় শংকরের দায় বাফা নিবে না বলে চিঠিতে উল্লেখ করে। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বাফার আপত্তি থাকবে না বলে চিঠিতে জানানো হয়। 

নিজের তিনটি পাস থাকার পরও কাউকে অবহিত না করে প্রতিষ্ঠানের প্যাড ব্যবহার করে বন্দরে পাসের জন্য আবেদন করা প্রসঙ্গে অমিয় শংকর বলেন, ‘বন্দরে বাফার ছয়জন স্টাফ আছে। তাদের নজরদারিতে রাখতেই এ পাস ইস্যু করেছিলাম। আমার কোন খারাপ উদ্যেশ্য ছিল না। সামনে নির্বাচন থাকায় এখন এ বিষয়টিকে বড় ইস্যু করতে চাচ্ছে একটি মহল।’ বাফা কিংবা বন্দর থেকে কেউ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে এখনো কিছু জানতে চায়নি বলে জানান তিনি। পাস প্রদান প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত থাকা বাফার সিনিয়র এক্সিকিউটিভ সাখাওয়াত হোসেনের নাম্বারে একাধিকবার ফোন করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে বাফার কাছে দেওয়া লিখিত জবাবে তিনি বলেন, ‘অমিয় শংকর বর্মনের নির্দেশে ইব্রাহীম আমানউল্লার নামে পাস ইস্যু করতে সহায়তা করেন তিনি। অমিয় শংকর বর্মণ তখন বাফার সহ-সভাপতি ছিলেন।’