করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের হাসপাতালে ভর্তির হার বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। ওমিক্রনের কারণে দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সংক্রমণযোগ্য ভাইরাস হিসেবে মনে করা হচ্ছে করোনার এই ধরনটিকে।    

ওমিক্রন ধরনের সংক্রমণের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা করোনা মহামারির চতুর্থ ঢেউয়ে প্রবেশ করেছে। তবে হাসপাতালগুলোতে এখনো চাপ তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জো ফাহলা। শুক্রবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের।

জো ফাহলা বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার নয়টি প্রদেশের মধ্যে সাতটিতে নতুন এ ধরনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। আশা করা হচ্ছে, এ ধরন খুব বেশি মানুষের প্রাণ নিতে পারবে না। তিনি দেশবাসীকে টিকার দুই ডোজই নেওয়ার আহ্বান জানান। বলেন, এটিই ওমিক্রনের বিরুদ্ধে সেরা সুরক্ষা।

দক্ষিণ আফ্রিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর কমিউনিকেবল ডিজিজেসের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী মিচেল গ্রুম বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় ওমিক্রন সংক্রমণ নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। এই সংক্রমণ কম বয়সীদের কাছ থেকে বয়স্কদের মধ্যে ছড়াচ্ছে।

মিচেল গ্রুম বলেন, হাসপাতালে শিশুদের জন্য শয্যা প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। কারণ, পাঁচ বছরের কম বয়সী রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান অ্যাঞ্জেলিক কোয়েটজি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা যা দেখতে পাচ্ছি, তাতে মনে হচ্ছে ওমিক্রন খুব বেশি ভয়ংকর রূপ নিতে পারবে না। এই ধরনটি দেখে মনে হচ্ছে, এটি খুব দ্রুত ছড়ায় এবং এখন পর্যন্ত আমরা এই ধরনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যে উপসর্গ দেখছি, তা খুবই সামান্য। কিন্তু আমাদের এ নিয়ে সচেতন থাকতে হবে। কারণ, আমরা জানি না, কোন রোগীর অবস্থা খারাপ হবে, আর কার হবে না। এ বিষয়ে আগামী দিনগুলোতে তথ্য জানা যাবে।’