শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) মেয়র পদে দলের মনোনয়ন পাওয়ার পর শনিবার বিকেলে দলীয় নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়েছেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। শনিবার বিকেলে নগরের ২ নম্বর রেলগেটস্থ দলীয় কার্যালয়ে গেলে দলের নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে তৈরি নৌকা প্রতীকের শুভেচ্ছা জানান। ওই সময় মেয়র শান্তির প্রতীক পায়রা উড়ান। পরে দলীয় কার্যালয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।

পরে দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন আইভী। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ২০১১ সালে যখন নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করেছিল তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনটি উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। আমরা একই দলের দুইজন নির্বাচন করেছিলাম। আপনারা তখন রায় দিয়েছিলেন আইভীর পক্ষে। ২০১৬-তে প্রথম প্রতীকে নির্বাচন হয়। প্রধানমন্ত্রী আমার হাতে নৌকা তুলে দেন। তখন মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন আমাকে সহযোগীতা করেছিলেন, ফলে আমি পাশ করেছিলাম। এবারও আপনারা সকলে আমার পাশে থাকবেন। ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি আমরা প্রধানমন্ত্রীকে নৌকা উপহার দেব।

তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জের জনতাই আমার প্রধান শক্তির উৎস। দল ও জনতা আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন বলেই আমি আজকে মেয়র। সে কারণেই আমি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাবোধ করিনি। দল আমাকে সবসময় সমর্থন দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জবাসী সব সময় আমার পাশেই ছিলেন। অচিরেই আমি প্রচারণা করবো। মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু করবো।

তিনি বলেন, অনেকে জানেন না ৮১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন বাংলাদেশে আসলেন তখন ঢাকার বাইরে নেত্রীকে প্রথম সংবর্ধনা দিয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী আহমদ চুনকা। তখন তার হাতে আওয়ামী লীগের চাবি তুলে দিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, আজ আমি সব আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই আমার পাশে থাকার জন্য। ২০০৩-এ যখন আমি নারায়ণগঞ্জে ফিরে আসি, অনেকে শহর ত্যাগ করেছিলেন। বিদেশে থেকেছেন, দেশে ঢুকতে পারেনি। তখন এই আওয়ামী লীগের অনেকেই আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলেই আমরা তখন জয় ছিনিয়ে আনতে পেরেছিলাম।

মেয়রের বক্তব্যের পর তার অনুসারী নেতাকর্মীরা শহরে একটি আনন্দ মিছিল বের করেন।